প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:৩৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের ২০২০ সালের মৃত্যু নিয়ে তাঁর বাবা সতীশ সালিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। বোম্বে হাইকোর্টের ২ সেপ্টেম্বরের নির্দেশের পর সিবিআই মামলাটি হাতে নেয় এবং ১৩ সেপ্টেম্বর এফআইআর নিবন্ধনের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে।
সিবিআইয়ের এফআইআরে হত্যা, গণধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রমাণ নষ্ট বা গোপন করা এবং সরকারি নথিতে ভুল তথ্য লিপিবদ্ধ করার মতো অভিযোগ তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে এ পর্যায়ে এফআইআরে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে এবং পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এফআইআরে যাদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরে, অভিনেতা ডিনো মোরিয়া, সুরজ পাঞ্চোলি এবং রিয়া চক্রবর্তী। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের নাম ও ভূমিকা তদন্তের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিবিআইয়ের নথিতে কথিত ‘ভুয়া আত্মহত্যার বয়ান’ তৈরি ও প্রচার, প্রমাণ গোপন, নষ্ট বা জাল করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার নথি বা সরকারি রেকর্ড গোপন, নষ্ট কিংবা বিকৃত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও যাচাই করা হবে।
দিশা সালিয়ানের বাবা সতীশ সালিয়ান দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়ের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তিনি বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন। তাঁর আবেদনের পর আদালত ২ সেপ্টেম্বর সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করে এফআইআর করার নির্দেশ দেয়।
আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিবিআইকে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার অর্থ কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তে পর্যাপ্ত উপাদান না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
দিশা সালিয়ান ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ে একটি আবাসিক ভবন থেকে পড়ে মারা যান। তিনি সুশান্ত সিং রাজপুতের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছিলেন। এর কয়েক দিন পর সুশান্ত সিং রাজপুতও মারা যান। দিশার মৃত্যুর সঙ্গে সুশান্তের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সিবিআইয়ের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে আদিত্য ঠাকরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, দিশা সালিয়ানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগকে প্রমাণহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
সিবিআই এখন দিশার মৃত্যুর পরিস্থিতি, আগের তদন্তের নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রমাণ গোপন বা বিকৃতির অভিযোগসহ মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।
মন্তব্য করুন