প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:২২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে ভার্গো টোব্যাকো ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ২ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা ও একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে এ তথ্য উদ্ঘাটন করে ভ্যাট গোয়েন্দা।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, ভ্যাট গোয়েন্দার দুটি দল একযোগে কারখানা ও গুদামে অভিযান চালায়। কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ রেখে ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খুলতে বলা হলেও কেউ সাড়া না দেওয়ায় গোয়েন্দা দলের সদস্যরা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভ্যাট গোয়েন্দারা কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখতে পান। সেখানে গিয়ে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা দেখতে পান। পোড়ানো সিগারেটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দলিল দেখাতে বলা হলেও তা উপস্থাপন করা হয়নি। এগুলো ধ্বংসের জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়।
পরে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার এক বিবৃতিতে জানান, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে।
অভিযানে কারখানা ও পাশের গুদাম থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। সেখানে কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায় বলে এনবিআর জানিয়েছে।
জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন বার্তা এবং হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে ভ্যাট গোয়েন্দারা দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল বলে তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধার করা পণ্য ও পাওয়া তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
অভিযানে অংশ নেওয়া ভ্যাট গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা জানান, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ভার্গো টোব্যাকো প্রতিষ্ঠা করেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা মাহবুব আক্তার। সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট ভাই। তাঁর বাবা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন