প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট, ২০২৬, ১০:১৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি হোম মিনিস্টার। আমি নিজেই এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের শিকার। আমি চাইব না বাংলাদেশে আর কেউ গুম হোক। আমরা এমন একটি আইন চাই, যাতে প্রত্যেক ভুক্তভোগী আদালতে যেতে পারে, বিচার পায় এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়।
আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন আনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথম অধিবেশনে গুম কমিশন অধ্যাদেশ পাশ করা হয়নি, কারণ শুধু কমিশন গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকার এমন একটি আইন সংসদে এনেছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার সরাসরি আদালতে গিয়ে বিচার চাইতে পারবে। গুমের ধরন, অপরাধের শাস্তি, তদন্তের নিয়মাবলী, ভুক্তভোগীর অধিকার এবং নিখোঁজদের উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির অধিকার ও ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো এই আইনে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আইনটি নিয়ে কারও মতামত থাকলে তা সংসদীয় কমিটিতে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
র্যাব প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথ নেওয়া হয়েছে। একটি আধুনিক এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে ভঙ্গুর একটি বাহিনী উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও তাদের মনোবল পুনর্গঠনে কাজ চলছে।
বক্তব্যে নিজের গুম থাকার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার গুমের ৬১ দিন—তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো কোনো কিতাব। প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো যে আগামী ভোর কি আমি দেখব? সকালের নাশতা দেওয়া হলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। আর নখের দাগ দিয়ে দেয়ালে সংখ্যা লিখে লিখে দিন গুনতাম। পাঁচ বাই দশ ফুটের ছোট কক্ষে বন্দি দশা ও পরবর্তীতে ভারতের শিলংয়ে ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেঁচে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে আন্ডারমাইনিং করা বা হাস্যরস করা অপকালচারে পরিণত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
সংসদ সদস্য ও গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান গুমের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জবাবদিহি, বিচার ও সম্মানজনক ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন এবং নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান।
মন্তব্য করুন