আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১১:০০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

স্বজন হারানোর শোকের মাঝেই আবার প্লাবনের আতঙ্ক, ঘরবাড়ি ছাড়ছেন নেপালের বাসিন্দারা

উজান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষিপ্র বন্যায় তছনছ হওয়ার পর নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আবারও নতুন করে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ফলে নদীতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে এই দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সমন্বিত পার্বত্য উন্নয়ন কেন্দ্র (আইসিআইএমওডি)। খবর বিবিসির।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে বাসিন্দারা যখন দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই উজান থেকে ১০০ মিটার উঁচু এক দানবীয় পানির স্রোত ধেয়ে আসে। আকস্মিক এই প্রলয়ে তিমুরে বাজার এলাকা চোখের পলকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় এবং কাস্টমস পয়েন্টে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক পণ্যবাহী যানবাহন ভেসে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্প নয়, বরং ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও ভূমিধসের ফলেই এই তাণ্ডব ঘটেছে।

নেপাল ও তিব্বতজুড়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের পর আইসিআইএমওডি একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা শিলা ও মাটির স্তূপের কারণে যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে প্লাবন তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন, ত্রিশূলী নদীর সংকুচিত অংশগুলোর কোথাও ধ্বংসাবশেষ জমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ আটকে গেছে কি না। নদীর গতিপথে শিলা ও মাটি জমা হয়ে কৃত্রিম 'ভূমিধসজনিত বাঁধ' তৈরি হলে তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এ ধরনের অস্থায়ী বাঁধ হঠাৎ ভেঙে গেলে অবরুদ্ধ বিপুল পরিমাণ পানি তীব্র বেগে ভাটির দিকে নেমে গিয়ে নতুন করে ধ্বংসাত্মক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। সম্ভাব্য এই কৃত্রিম বাঁধগুলোর আকার, অবস্থান এবং স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন