প্রকাশিত: ৫০ মিনিট আগে, ০৫:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট। দুই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।
আমির খসরু জানান, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল গত কয়েক দিনে তথ্য আদান-প্রদানসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সেসব আলোচনার ভিত্তিতে আজকের বৈঠকেও বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত ও কর-জিডিপি অনুপাতসহ কিছু বিষয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ আছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, এটা থাকা স্বাভাবিক, আর বাংলাদেশেরও কিছু বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয়ের সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলবে। আগামী কয়েক মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে।
আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রেখে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, এসব বিষয়ে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগ্রহী।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান আমির খসরু। তিনি বলেন, সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
কর্মসূচির শর্ত ও মতপার্থক্যের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শর্ত থাকবে। কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা ধৈর্য ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি বিশ্বাসযোগ্য কৌশল রয়েছে বলেই আলোচনা এত দূর এগিয়েছে। এই কৌশলের ভিত্তিতে বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।
উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ অক্টোবর ব্যাংককে শুরু হয়েছে। সভা চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন