প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ১১:২৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ‘গ্রক’ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা একটি সরকারি নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ১৫ জুনের ওই নথিতে বলা হয়, Elon Musk-এর এআই প্রতিষ্ঠান xAI-এর একটি বড় ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহে গ্যাস টারবাইন ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। পরিবেশগত মামলার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই যুক্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এআই প্রযুক্তি সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
নথিতে উল্লেখ করা হয়, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। কারণ, এর লক্ষ্য এমন একটি এআই ব্যবস্থার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা, যা সরাসরি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon-এর এআই প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলির সাক্ষ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’-এ ইতোমধ্যে ‘গ্রক’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআই প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।
স্ট্যানলির তথ্যমতে, ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমস’ ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে মাত্র ৯৬ ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গ্রক গভ’ মডেলের কারণে সামরিক কার্যক্রমের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে এই প্রকল্পে Anthropic-এর ‘ক্লদ’ মডেল ব্যবহৃত হলেও পরে সেই চুক্তি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। স্বয়ংক্রিয় হামলা বা নজরদারির কাজে তাদের এআই ব্যবহারে আপত্তির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে নাগরিক অধিকার সংগঠন NAACP এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়াই একাধিক গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করছে এবং এতে কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে।
অন্যদিকে এক্সএআই দাবি করেছে, ব্যবহৃত টারবাইনগুলো অস্থায়ী হওয়ায় সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে না।
সামরিক খাতে এআই ব্যবহারের প্রসারে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে Google, OpenAI এবং এক্সএআইসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে। তবে এ নিয়ে প্রযুক্তি খাতে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্কও বাড়ছে।
মন্তব্য করুন