প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, দুই দেশের স্বার্থের সমন্বয়ে একটি ‘অভিন্ন জায়গা’ খুঁজে পেলেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, কোনো সম্পর্ক তখনই কার্যকর হয়, যখন তা উভয় পক্ষের জন্যই কিছুটা উপকারী হয়। একতরফাভাবে কোনো দেশ শুধু নিজের স্বার্থে সম্পর্ক পরিচালনা করতে পারে না; অপর পক্ষের স্বার্থকেও সম্মান করতে হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করবে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের ওপর।
বর্তমানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশ তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার প্রেক্ষিতে তাকে দেশে ফেরত চেয়ে আসছে। একই সময়ে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যদিও দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জয়শঙ্কর বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিলতা সমাধানে ‘কমন গ্রাউন্ড’ বা অভিন্ন স্বার্থের জায়গা খুঁজে বের করা জরুরি। এতে উভয় দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান তৈরি হয় এবং সম্পর্কের গতি স্বাভাবিক থাকে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাই ঝুঁকি কমাতে ‘ডি-রিস্কিং’ কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। কোনো একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জ্বালানি, সার ও আন্তর্জাতিক নৌপথে অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, শুধু কম খরচ নয়, ভবিষ্যৎ ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক বছরে টানাপোড়েন থাকলেও স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন