সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৮ ১৪৩২   ২৩ রজব ১৪৪৭

ভূঞাপুরে যমুনার চরাঞ্চলে ডুবে গেল কৃষকের স্বপ্ন

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিত : ০৩:৩৮ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পঞ্চম দফার এ বন্যায় ভেস্তে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। শত শত একর জমির রোপা আমন, বীজতলা ও সবজি বাগান পানির নীচে চলে গেছে। বুকভরা আশা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে চরা দামে চারা ক্রয় করে যে রোপা আমন কৃষক লাগিয়েছিলেন তা এখন পানির নীচে দোল খাচ্ছে। হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে।

উপজেলার গাবসারা, নিকরাইল, অর্জুনা ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে অনেক ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে রয়েছে ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এই নিয়ে হাজারো কৃষক চরম বিপাকে পড়েছে। কৃষকের অনেক স্বপ্ন ছিলো, সুখে শান্তিতে দিন কাটাবে কিন্তু সর্বনাশা বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো।

এদিকে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে। বেশির ভাগ কৃষক বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক অথবা চড়া সুদে মানুষের কাছ থেকে ঋণে টাকা এনে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করেছে। এখন বন্যার পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা দু’চোখে অন্ধকার দেখছে। কৃষকরা জানিয়েছে, এমনিতেই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তার ওপর দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার পর আবারও পানি বৃদ্ধির কারণে তলিয়ে গেছে ফসলের জমি। এই বন্যার কারণে বিলীন হয়েছে ফসলসহ কয়েক’শ বিঘা আবাদি জমি। ফলে এসব ফসল ঘরে তোলার কোনো আশাও নেই তাদের। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল-মামুন রাসেল বলেন, হঠাৎ যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার রোপা আমন ও বীজ তলাসহ অন্যান্য ফসলের জমি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বার বার সতর্ক করার পরেও তারা চারা রোপন শুরু করে। তবে এ বন্যার পানি বেশি দিন স্থায়ী থাকবে না, অতি দ্রুতই কমে যাবে মনে হচ্ছে। সরকারিভাবে যদি কোন অনুদান আসে তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। তাতে কৃষকরা কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।