স্বাধীনতার ৫০বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি বরগুনার মোশারেফ
অলিউল্লাহ ইমরান, বরগুনাঃ
প্রকাশিত : ০২:০৫ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার
৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রীয় অংশগ্রহন করেও তালিকায় নেই বরিশালের বরগুনা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এর মৃত: ওহাব এর পুত্র মোশারেফ হোসেন(৭০) এর।
১৯৭১ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধূ শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে সক্রীয় ভাবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন।
মুক্তি যুদ্ধ শুরু হলে সুচনা লগ্ন থেকেই সেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ জলিল এর নের্তৃত্বে ৯নং সেক্টরের আওতাধীন বিভিন্ন যায়গায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন মোশারফ হোসেন।তৎকালীন হঠাৎ একদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে গোপনে নির্দেশ আসলো, মেজর এম.এ. জলিল ও এড. মঞ্জু’র কমান্ডে ‘সারা শহর অস্ত্রসহ মহড়া এবং অস্ত্রাগারের কিছু অস্ত্র মজুত রেখে বাকি অস্ত্র পুলিশ এবং মুক্তিবাহিনীদের হাতে দিয়ে দিতে হবে।সেই সময় মোশারফ হোসেন বরিশাল পুলিশ লাইন্স এ পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। আধুনিক অস্ত্র ও হ্যান্ডগ্রেনেড পরিচালনায় পারদর্শী এই মুক্তিযোদ্ধা সুনামের সাথে দেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখেন।
যুদ্ধ চলাকালীন মোশারেফ হোসেন বাঙালি নতুন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক ট্রেনিং করানো সহ অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন বলে জানান- এই মোশারফ হোসেনের সহযোদ্ধারা।
যুদ্ধ চলাকালীন প্রথম যখন বরিশালে পাকবাহিনীর প্রবেশ করে, তার আগে থেকেই, মোশারফ হোসেনসহ ৮/১০ পুলিশ কর্মকর্তাকে লঞ্চঘাটে দায়িত্ব দেওয়া হয় যে নদীপথে পাকিস্তান সেনা আসছে কিনা?ঘটনার দিন পাকবাহিনী হঠাৎ আকাশ পথে হামলা চালায়, এতে সিভিল সাপ্লাই গোডাউন এলাকায় ভারী গুলি বর্ষনে একজন চোখের সামনে নিহত হন, তখন আমাদের হাতে অস্ত্র দিয়ে বিমান লক্ষ করে গুলি করি, কোন কাজ হয়নি এই রাতেই পুলিশ লাইনে আবার গুলি বর্ষন করে মাঠে ছিল একটা পুলিশের কার তা ঝাপসা করে দেয়। পরে বরিশাল কার্যক্রম এলোমেলো হয়ে যায়। পরবর্তীতে বরিশাল এর কীর্তনখোলা নদীতে সহকর্মীদের নিয়ে নদী পার হয়েছি ভারি অস্ত্র নিয়ে।এসময় বরিশাল কোতোয়ালি থানার দক্ষিণ পাশে খগেন সাহার বাড়ীতে ছিল খাবার ব্যবস্থা, যেখানে আমাদের খাবার ও আশ্রয়স্থল ছিল।যুদ্ধকালীন সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনকে হত্যা শুরু করে পাক বাহিনী। হঠাৎই একদিন বরগুনা জিলা স্কুলের শিক্ষক অ্যাডভোকেট সুরেন চন্দ্র অধিকারী কে ধরে নিয়ে আসে পাকবাহিনী, ঐসময় মোশারফ ও তার সহধর্মিণী পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঐ হিন্দু শিক্ষককে ক্যাম্পে থেকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করে।
মুক্তিযুদ্ধে কি অবদান রেখেছেন তা জানতে চাইলে কান্না জড়িত কন্ঠে এই দীর্ঘ বর্ণনা করেন এই অসহায় লাল মুক্তিবার্তা তালিকার বাহিরে থাকা একজন সম্মুখ মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেও কোন একভূলে বা সঠিক যোগাযোগের অভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম ওঠেনি। সহযোগীতার জন্য কেউ এগিয়েও আসেনি। কেন? তা সবার অজানা।
দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছেন, করেছেন মুক্তিযুদ্ধ, অথচ জীবনের শেষ সময় তার আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে আজ তিনি বিভিন্ন দূরারোগ্যে ভুগছেন।কাটাচ্ছেন এক কষ্টময় জীবন।তিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন- জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তি যুদ্ধ করেছিলাম, অর্জন করেছিলাম একটি স্বাধীন পতাকা। আমি স্বৃকীতি চাইনা, আমি অর্থ বিত্ত চাইনা, চাই প্রধান মন্ত্রীর একটু সু-দৃষ্টি যেন, মরনের সময় সেই জাতীয় পতাকা তলে আমাকে সমাধিত করা হয়।জীবন শায়ন্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হলেও আমি তুষ্ট।
