শুক্রবার   ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১ ১৪৩২   ২৫ শা'বান ১৪৪৭

চট্টগ্রামের ‘লেডি গ্যাং লিডার’ সিমি সহ দুই সহযোগী গ্রেফতার

তরুণ কণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত : ০১:০৪ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২০ সোমবার

চট্টগ্রামে লেডি গ্যাং লিডার তাহমিনা সিমি ওরফে সিমরান সিমিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দুই সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।

বাসায় গিয়ে তরুণীর উপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত বাকি দুই জন হলেন- নগরীর হালিশহর থানার নয়াবাজার এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. শাখাওয়াত, বন্দর থানার ইস্ট কলোনী এলাকার আজিবুর রহমানের ছেলে মো. লামিম শাওন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া বলেন, মোহনা আক্তার নামে এক নারী দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে লেডি গ্যাং লিডার সিমি ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, অনলাইনে কিশোর গ্যাং কালচারের বিরোধের জের ধরে অধরা আহমেদ (২২) নামের এক তরুণীকে ২৪ আগস্ট তার বাসায় ঢুকে বেধড়ক মারধর করে পাঁচ কিশোর-কিশোরীর একটি দল। মারধর ছাড়াও তার ওই তরুণীর বুকের দিক থেকে জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলে। পরে হামলাকারী ওই দলটিই ‘শিক্ষা দিতে’ মারধরের ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে। ইপিজেড থানার বন্দরটিলা কসাই গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার অধরা আহমেদ জানিয়েছেন, অনলাইনে পরিচয়ের পর শাখাওয়াত নামের এক কিশোরের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং ওই কিশোরের অনৈতিক বিভিন্ন প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় বন্ধুবান্ধব নিয়ে এভাবে তার বাড়ি গিয়ে হামলা করা হয়েছে।

শাখাওয়াত ছাড়া হামলায় অংশ নেওয়া বাকি চারজন হলেন শাখাওয়াতের দুই বন্ধু শাওন (২২) ও আরেফিন (২২) এবং দুই বান্ধবী সিমরান সিমি (১৮) ও তানিয়া (১৭)।

হামলার শিকার অধরা আহমেদ বলেছিলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে শাখাওয়াতের সঙ্গে পরিচয় হয় আমার। কিছুদিন পরই সে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আমি নাকচ করে দিলে বিভিন্ন সময়ে সে আমাকে অশ্লীল এসএমএস দিতো। এসবের প্রতিবাদ করায় সে তার বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে আমার ছবি দিয়ে যা তা লিখতে শুরু করে। এসব নিয়ে তার সাথে আমার অনলাইনে ঝগড়া হয়েছে। এর জের ধরে সে আমার বাড়িতে এসে হামলা চালাবে ভাবতেও পারিনি আমি।’

অধরা আহমেদ জানান, তার গ্রামের বাড়ি খুলনা বাগেরহাটে। ৬ বছর আগে পিতা মারা গেছেন। এক ভাই ও মাকে নিয়ে এই বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। পাশেই বড় বোনের বাসা। ঘটনার সময় তার ভাই গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। আর মা ছিলেন বাইরে। ওই সময় ঘরে একাই ছিলেন অধরা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অধরা বলেন, ‘হঠাৎ করে শাখাওয়াত কল করে তাকে নিচে নামতে বলেন। তিনি নিচে না যাওয়ায় তারাই দুই তলার ওপর উঠে আসে। এ সময় সিমি প্রথমে তাকে মারধর শুরু করে। পরে শাখাওয়াতসহ অন্যরাও হামলায় অংশ নেয়।’

অধরা অভিযোগ করেন, ‘তারা ৫ জন মিলে আমার বাসায় এসে আমাকে মারধর করলো, আবার তারাই সেটার ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিল। শাখাওয়াত ও সিমি দুজনে মিলে আমার বুকের দিক থেকে জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলে। শাখাওয়াতের সাথে আমার ঝগড়া হয়েছিল। কিন্তু সিমির সাথে তো কিছুই ছিল না। আর আমার যদি কোন অপরাধ থেকেও থাকতো তাহলে তারা আমার বাসায় এসেছে আমার আত্মীয়স্বজনদের জানাতে পারতো।

জানা গেছে, কিশোরীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শাখাওয়াত ইসলামের বাসা আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ এলাকার মিয়া বাড়িতে। তিনি জনৈক রফিকের সন্তান। তিনি ছাড়াও এ ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্য দুই কিশোরীর একজন তানিয়া। তানিয়া পড়াশোনা করে নগরীর বন্দরটিলা সিটি করপোরেশন কলেজে। অন্যজন সিমরান সিমির বাসা নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায়।