লাকসামে নারী বীমা কর্মীর ফাঁদে প্রবাসী এক পরিবার সর্বশান্ত
মোঃ মশিউর রহমান সেলিম
প্রকাশিত : ০৭:৪০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউপির রামারবাগ গ্রামের এক প্রবাসী পরিবার নারী বীমা কর্মীর ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় জনমনে নানাহ বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবাকি ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ঐ ইউপির ৭নং ওয়ার্ড রামারবাগ গ্রামের মৌলভী পেয়ার আহম্মদের মেঝে ছেলে প্রবাসী আবু হানিফের সাথে বায়রা লাইফের বীমা কর্মী হোসনে আরা বেগমের বীমা পলিসি করার সুবাদে পরিচয় ঘটে। আর এ সুবাদে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন প্রেম করার সুবাদে অবশেষে গত ০৭-১১-২০০৬ইং সালে সামাজিক ভাবে বিয়ে করলেও বাড়ীতে স্ত্রী নিয়ে ডুকতে পারেনি আবু হানিফ। বিয়ের ৩/৪মাস পর পুত্র ও সামাজিক লোকজনের অনুরোধে হানিফের পিতা-মাতা পুত্রবধুকে মেনে নিয়ে বাড়িতে তুলে আনে। কিছুদিন সংসার করার পর শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবে বলে পুত্রবধু হোসনে আরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শুরু করে অনেক নাটকিয় ঘটনা। স্ত্রীর বেপরোয়া জীবন যাপনের ফলে মান সম্মানের কথা চিন্তা করে স্বামী আবু হানিফ হোসনে আরাকে দুবাইতে তার কাছে নিয়ে যায়। প্রায় বছর খানেক রাখলেও স্ত্রীর বেপরোয়া জিবন যাপন রুখতে না পেরে পুনরায় দেশের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। অবশেষে স্বামীকে না জানিয়ে পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও পুরানবাজার এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। এর মধ্যে স্ত্রী হোসনে আরা বেগম স্বামীকে না জানিয়ে পরপর ২টি সন্তান নষ্ট করলে তাদের দাম্পত্য জীবনে ভুল বুঝা বুঝি সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ঐ ঘরে ২ সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সুত্র গুলো আরো জানায়, গৃহবধু হোসনে আরা প্রবাসী স্বামী হানিফের অনুপস্থিতে শুশুর-শাশুড়ীর সাথে বনিবনার অজুহাতে আলাদা সংসার করতে থাকে এবং নানাহ বিষয়াদী নিয়ে কয়েক বার হারপিক ঔষধ খেয়ে ওই প্রবাসীর পরিবারকে বিপদে ফেলেছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিকবার শালিস দরবার বসলেও বীমাকর্মী গৃহবধু হোসনে আরার বেহাল্লাপনা ও অসদাচারণ রুখতে পারেনি স্বামীর বাড়ীর স্বজনরা।
অপর দিকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রবাসী স্বামী আবু হানিফের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় স্বর্ন অলংকার ও ফার্নিচার বাবদ ৩লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, মোবাইল ব্যাকিং এ ১লক্ষ ৩হাজার টাকা, ব্যাংকের মাধ্যমে ১৪লাখ ১২হাজার টাকা সহ প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার দালিলিক প্রমানাদি রয়েছে। স্ত্রী হোসনে আরা একাধিক মোবাইল সীম ব্যবহার করে স্বামী হানিফের সাথে নানাহ ভাবে প্রতারনা করেছে। স্বামী-স্ত্রী উভয় উভয়ের বিরুদ্ধে পরকীয়ায় অভিযোগ নিয়েও অন্তকলহ উভয়ের মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। স্ত্রীকে কোন ভাবেই আয়ত্বে আনতে না পেরে অবশেষে তালাক দেওয়ার ভয় দেখালেও স্ত্রী হোসনে আরা তাতে কর্নপাত না করে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। অবশেষে ইসলামী শরীয়তের কথা চিন্তা করে ও স্ত্রীকে সঠিক পথে আনার চেষ্টার অংশ হিসাবে স্বামী-আবু হানিফ স্ত্রী হোসনে আরাকে সময়ের ব্যবধানে ১ তালাক করে ২বার মৌখিক তালাক দিয়ে শর্তক করা হলেও পরবর্ত্তিতে চুয়ান্ত ভাবে তালাক দিতে বাধ্য হয়।
অপর দিকে স্ত্রী হোসনে আরা নিজের অপকর্ম ডাকার জন্য বেচেঁ নেয় নানাহ চলচাতুরী। অবশেষে গত ৭ আগষ্ট স্বামীর বাড়ী রামার বাগ নিয়ে নাটকীয় মারদর ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে স্বামী, বৃদ্ধ শশুর-শাশড়ী ও বাসুর সহ ৬জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ৮ আগষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে গৃহ বধু হোসনে আরা বাদী হয়ে মামলা করেন।
এব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও মামলার বাদী বীমা কর্মী গৃহ বধু হোসনে আরার দুটো মঠো ফোনে একাদিকবার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে গৃহ বধুর স্বজনরা বলেছেন ভিন্ন কথা।
ওই গৃহবধুর শশুর মৌলভী পেয়ার আহম্মদ জানান, হানিফের স্ত্রী হোসনে আরাকে আমি বাড়িতে এনে ভূল করেছি। সে নানাহ চলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে আমার পুরো পরিবারটাকে সর্বশান্ত করে ফেলেছে। এমনকি আমাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করেছে বলে শুনেছি। যা আদো সত্য নয়, সে তাঁর অপকর্ম ডাকার জন্য এ মামলার পথ বেঁচে নিয়েছে।
