৩য় দফার বন্যায় শাল্লা’র জনজীবণ বিপর্যস্ত
শাল্লা প্রতিনিধি-
প্রকাশিত : ০৫:৪৫ পিএম, ২১ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লায় ৩য় দফায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। একদিকে বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতি অপরদিকে দীর্ঘ মেয়াদী বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলার সাধারণ মানুষ অনেকটা দিশেহারা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের বাড়ি-ঘর উত্তাল ঢেউয়ে ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার ভিটে হারা হয়ে বিভিন্ন স্কুলে (বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র) আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার্ত লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও স্থান হচ্ছে না তাদের গৃহপালিত গবাদি পশুর।
৩য় দফার বন্যা পরিস্থিতিতে শাল্লা ইউনিয়নের ইয়ারাবাদ গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। ছেলে-মেয়েসহ গবাদি পশুদের নিয়ে মহাবিপদে আছি। আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথাও যেতে পারছি না। ঘরের মধ্যেই মাচা করে অবস্থান করছি।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের কালীপদ রায় জানান, আমি ১ম, ২য় ও বর্তমান ৩য় দফাসহ সবকটি বন্যা পরিস্থিতিতেই আমার ঘর প্লাবিত হয়েছে। প্রথম দু’দফায় আমার বাড়ি না ভাঙ্গলেও এখন উত্তাল ঢেউয়ে আমার ভিটা ভেঙ্গে যাচ্ছে। জানি না এখন কোথায় থাকবো।
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ৩য় দফার বন্যা পরিস্থিতি প্রথম দু’দফার পরিস্থিতিকে পেছনে ফেলে বৃদ্ধি পেয়েছে উত্তাল ঢেউ। আর ওই উত্তাল ঢেউয়ে ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে মানুষের বসত ভিটা। লোকজন বাঁশ ও কচুরিপানা দিয়ে বসত বাড়ির রক্ষা করতে প্রানপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি’র প্রথম দু’দফাতেই ওইসব কচুরীপানা শেষে হওয়ায় লোকজন পড়েছেন মহাসংকটে।
বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলার বাহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিধান চৌধুরী জানান, প্রথম দু’দফার বন্যা পরিস্থিতিকে হার মানিয়ে বর্তমান ৩য় দফায় পানি কিছুটা বেশী হয়েছে। তিনি আরো জানান, তার ইউনিয়নে নতুন বসতিগুলো বন্যা কবলিত। তার ইউপি এলাকায় ৬শ’ পরিবার বন্যা কবলিত রয়েছে।
হবিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বলেন, আমার ইউনিয়নের সবকটি গ্রামই বন্যা কবলিত। বন্যার ১ম ও ২য় দফায় কচুরীপানা দিয়ে বাড়ি-ঘর রক্ষা করলেও এখন কচুরীপানাও পাচ্ছেনা। সব মিলিয়ে ¯্রষ্টার উপর ভরসা করা ছাড়া আরকোনো উপায় নেই।
আটগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম আজাদ বলেন, আমার ইউপি’র প্রায় সবকটি গ্রামই বন্যা কবলিত। এলাকার লোকজন বিপদে আছে। উত্তাল ঢেউয়ে লোকজনের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মুক্তাদির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তার মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পূর্বের মতো ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
