আমরণ অণশনের হুমকি বিআরডিবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
কামাল হোসেন শান্ত
প্রকাশিত : ০৪:০৭ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার
চাকরি স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে অনঢ় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি’র) কর্মীরা। প্রকল্পভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী রোববারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন এবং সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে আমরণ অনশনে যাবো। গতকাল বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিআরডিবি’র কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা এসব তথ্য জানান।
প্রকল্পভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ১৫ টি প্রকল্পের অধীনে ৮ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী চাকরি করছি। নিয়োগের সময় বলা হয়েছিল, ৫ বছর চাকরি করার পর স্থায়ীকরণ করা হবে। কিন্তু ২০ বছর অতিবাহিত হলেও সেই কথার বাস্তবায়ন হয়নি।
এমনকি গত ২ বছর ধরে বেতন দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন কোন উপায় না দেখে আমরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি। সংগঠনটির যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সকালের সময়কে বলেন, আমাদের দাবি তিনটা হলো, চাকরি স্থায়ীকরণ করা। স্থায়ীকরণের পূর্ব পর্যন্ত শতভাগ বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা। দারিদ্র বিমোচনে বিআরডিবির কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারিত করার জন্য বঙ্গবন্ধু পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘোষণা দেওয়া।
তিনি আরো বলেন, এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বেতন ভাতা দেওয়া হলেও গত ৩ বছর ধরে বিআরডিবির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই থেকে তিন বছর ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে বিআরডিবির কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে ৮ হাজার কর্মীর মধ্যে ৩০০ থেকে ৩৫০ কর্মীকে ঠিকই বেতন দেওয়া হচ্ছে। এটা এক ধরনের বৈষম্য। যে কারণে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাসানুল ইসলাম (এনডিসি) সকালের সময়কে বলেন, আমরা তাৎক্ষনিকভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিলে হবে না। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোন কিছুই করা সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, তারা আমাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ১০৯ টি মামলা করে রেখেছে। ফলে, মামলা নিষ্পত্তি না হলে তো কিছু বলা যাবে না। সরকার যদি সুযোগ দেয়, পোস্ট তৈরি করে তাহলে তারা সুযোগ পাবে। এখানে আমাদের কিছুই বলার নেই।
উল্লেখ্য প্রকল্পসমুহ: একটি বাড়ি একটি খামার (৩য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্প, সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি-৩য় পর্যায় উন্নয়ন প্রকল্প, ‘অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-৩য় পর্যায় (পিআরডিপি-৩),দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প,পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (পজীপ) ২য় পর্য়ায় উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ প্রকল্প (সংশোধিত), উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’’শীর্ষক প্রকল্প,‘দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঙ্গাচড়া দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুগ্ধ কারখানা স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প।
