শনিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৯ ১৪৩২   ০৪ রমজান ১৪৪৭

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন নিয়ে ডাকসুতে অন্তর্কোন্দল

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৪:০৮ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ডাকসুর সদস্যদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই সময় ডাকসু প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খানসহ কয়েকজন। তাদের সাথে ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টদের দেখা গেলেও ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা ও হেমা চাকমাসহ অন্য সদস্যদের সেখানে রাখা হয়নি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সদস্যরা জানান, তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন গণমাধ্যমে প্রচারিত লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

 

ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে দুইবার প্রশ্ন করার পর তাকে জানানো হয়েছিল যে, কেবল রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে সিনেট সদস্যরা সেখানে যাবেন এবং এটি একটি ‘সিলেক্টিভ’ প্রক্রিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, নির্দিষ্ট একটি দলের কর্মীদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও ডাকসুর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকের কোনো খবরই রাখা হয়নি।

 

জুমা অভিযোগ করেন, প্রভাতফেরি বা পুষ্পস্তবক অর্পণের মতো বিষয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেবল শীর্ষ তিন নেতৃত্ব—ভিপি, জিএস ও এজিএস নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। তারা কোনো সাধারণ নোটিশ বা গ্রুপে কোনো আলোচনার প্রয়োজন মনে করেন না। জুমা বলেন, "যদি ডাকসুর নাম ব্যবহার না করে কেবল 'সিনেট সদস্যবৃন্দ' ব্যানারে যেতেন, তবে অন্তত অন্য সম্পাদকদের প্রশ্নবিদ্ধ হতে হতো না।"

 

সদস্যদের মতে, ডাকসু শিক্ষার্থীদের আমানত। সম্পাদক হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের জটিলতার কারণে এই দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সদস্যদের মতে, এমন পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমেই এড়ানো সম্ভব ছিল। কিন্তু গ্রুপে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না।

 

শহীদ মিনারে উপস্থিতি নিয়ে এই বিতর্ক সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ডাকসুর ব্যানারে কেবল একটি ছাত্রসংগঠনের প্রভাব বিস্তার এবং নির্বাচিত অন্য প্রতিনিধিদের কোণঠাসা করে রাখার এই প্রবণতাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন না। দায়িত্বশীলরা মনে করছেন, ডাকসুর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্মে এমন বিভেদ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।