শনিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৯ ১৪৩২   ০৪ রমজান ১৪৪৭

ট্রাম্প ১০% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ, সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা

রয়টার্স

প্রকাশিত : ০২:৩১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পর অস্থায়ীভাবে সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন (ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪)-এর ১২২ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

 

আগামী ১৫০ দিন বিশ্বের সব দেশের ওপর এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ক একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো আইন কিংবা আইনের ধারার বলে আগের শুল্ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় কি না—সে বিষয়ে অনুসন্ধান করতে নিজের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “আমাদের বিকল্প আছে, চমৎকার সব বিকল্প আছে। এসব বিকল্প ব্যবহার করা হলে আরও বেশি অর্থ আসবে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করতে পারব এবং আরও শক্তিশালী হবো।”

 

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে—ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৭ আইনটি বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে এই আইনের আওতায় যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে—তা অবৈধ।

 

অবশ্য এই অবৈধ শুল্ক থেকে উপার্জিত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলারের কী হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আদালত দেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে নিম্ন আদালতগুলো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের ওপরও বিষয়টি ছাড়া হতে পারে।

 

যারা ট্রাম্প প্রশাসনকে শুল্কবাবদ দেওয়া টাকা ফেরত চান, তাদের মামলা করতে হবে আমেরিকার আদালতে। ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর হাজারের বেশি সংস্থা টাকা ফেরতের জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, শিগগিরই অন্য কোনো আইনের আওতায় দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক ফিরিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এ ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। গত প্রায় এক বছরে শুল্ক থেকে অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার উপার্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজছে।

 

এই শুল্কনীতির ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক দেশ প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।