রোজা রেখে নখ ও চুল-দাড়ি কাটা যাবে?
তরুণকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৩:১০ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও রোজা: পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় নখ কাটা বা চুল-দাড়ি ছাঁটা যাবে কি না—এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় নখ বা চুল কাটলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এগুলোর সঙ্গে রোজা রাখা বা না রাখার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনে যে কোনো সময় এই কাজগুলো করা যাবে।
দাড়ি শেভ করার মাসআলা: রোজা রেখে দাড়ি শেভ করলে রোজা ভাঙবে না এবং রোজা তার আপন গতিতে আদায় হয়ে যাবে। তবে ইসলামি স্কলারদের মতে, এতে রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণতা পায় না। রমজানের মূল শিক্ষা হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য করা। দাড়ি রাখা যেহেতু রাসূল (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, তাই এটি কামানোর মাধ্যমে সুন্নতের খেলাফ করা হয়, যা একজন রোজাদারের জন্য শোভনীয় নয়।
সুন্নতের অনুসরণ ও নৈতিকতা: মুহাদ্দিসিনদের মতে, দাড়ি শেভ করার মাধ্যমে সুন্নতের ওপর আঘাত করা হয়। রোজা কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং এটি নিজের জীবনকে আল্লাহর হুকুম ও নবীর আদর্শে সাজানোর একটি প্রশিক্ষণ। দাড়ি কামিয়ে রোজা রাখলে ইবাদত পালন হলেও আল্লাহর পরিপূর্ণ আনুগত্য ও সুন্নতি জীবন গঠনের লক্ষ্যটি অপূর্ণ থেকে যায়। তাই এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
রমজানে বর্জনীয় কিছু কাজ: রোজার গুরুত্ব ও সওয়াব পূর্ণমাত্রায় পেতে কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—অহেতুক ইফতারে বিলম্ব করা, সাহরি না খেয়ে রোজা রাখা এবং অতিরিক্ত কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকা। এছাড়া মিথ্যা বলা, গিবত করা, অশ্লীল ছবি বা নাটক দেখা এবং লোক দেখানো ইবাদত (রিয়া) থেকে বিরত না থাকলে রোজার আধ্যাত্মিক সুফল পাওয়া যায় না।
সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সতর্কতা: ব্যবসায়ীদের জন্য রমজানে পণ্যের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা কঠিন গুনাহের কাজ। এছাড়া হক আদায় না করে দায়সারাভাবে কোরআন খতম করা, সারা দিন অহেতুক ঘুমানো এবং বেহুদা কাজে রাত জাগরণ করাও রোজার মাহাত্ম্য কমিয়ে দেয়। দুনিয়াবী ব্যস্ততা কমিয়ে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের দিকেই মুমিনদের বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।
সিদ্ধান্ত ও তথ্যসূত্র: ইসলামি ফেকাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাব সহিহ বুখারি ও সুনানে কুবরাসহ বিভিন্ন হাদিসের রেফারেন্স অনুযায়ী, শরীরবৃত্তীয় পরিচ্ছন্নতা রোজার অন্তরায় নয়। তবে দাড়ি শেভ করার মতো সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ বর্জন করে রমজানের বরকত পুরোপুরি গ্রহণ করাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।
