দাড়ি ছাঁটলে জেল! কঠোর হচ্ছে তালেবান শাসন, বিপাকে নাপিতরা
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৩:০৭ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
সংগ্রহীত ছবি
আফগানিস্তানে দাড়ি ‘বেশি ছোট করে’ ছাঁটার অভিযোগে নাপিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তালেবান শাসকগোষ্ঠী। দেশটির নীতিনৈতিকতা–বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে হাতের মুঠোর চেয়ে লম্বা দাড়ি রাখা ‘বাধ্যতামূলক’। আগের নির্দেশনার তুলনায় এবার দাড়ির দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করার বিধান চালু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিনৈতিকতা–বিষয়ক মন্ত্রী খালিদ হানাফি বলেন,
‘সবার বেশভূষা যাতে শরিয়াহ আইন (ইসলামিক আইন) অনুযায়ী হয়, সেটা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের।’
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সর্বক্ষেত্রে ইসলামিক ব্যবস্থা প্রচলনে বাধ্য। ইতোমধ্যে শহরগুলোতে টহল দিয়ে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গজনী এলাকার এক ৩০ বছর বয়সি নাপিত জানান, তাকে তিন রাত আটক রাখা হয়েছিল। তার দাবি, সেলুনের এক কর্মী একজন গ্রাহকের চুল ‘পাশ্চাত্যের স্টাইলে’ কাটায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‘আমাকে শুরুতে একটি ঠাণ্ডা হলঘরে আটকে রাখে। মুক্তির দাবি জানানোর পর তারা আমাকে একটি ঠাণ্ডা শিপিং কন্টেইনারে স্থানান্তর করে।’
কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই পরে তিনি মুক্তি পান। তবে টহল দল দেখলেই লুকিয়ে থাকেন বলে জানান।
‘ব্যাপারটা হলো, কেউ তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না বা তাদের সঙ্গে তর্ক করতে পারে না।’
‘সবাই তাদেরকে ভয় পায়।’
তার ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহককে ছেড়ে দিলেও নাপিতকে আটক রাখা হয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর কুনার প্রদেশে আইন ভঙ্গের অভিযোগে তিন নাপিতকে তিন থেকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নীতিনৈতিকতা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তালেবান নিয়ন্ত্রিত ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকেও কঠোর নির্দেশনা এসেছে। নভেম্বরে মসজিদের ইমামদের কাছে আট পৃষ্ঠার নির্দেশনা পাঠিয়ে দাড়ি কেটে ফেলাকে ‘বড় ধরনের অপরাধ’ আখ্যা দিতে বলা হয়। এমনকি খুতবায় বিষয়টি উল্লেখ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছেন, দাড়ি কেটে পুরুষরা ‘নারীদের মতো বেশ ধারণ’ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, তালেবান শাসনে আফগান নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি নেই।
কাবুলের এক ২২ বছর বয়সি শিক্ষার্থী জানান,
‘প্রভাষকরা আমাদেরকে হুশিয়ার করেছেন। আমাদের বেশভূষা যদি ইসলামসম্মত না হয়, তাহলে তারা আমাদের পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেবেন।’
রাজধানী কাবুলের এক ২৫ বছর বয়সি নাপিত বলেন,
‘তরুণরা ছোট করে দাড়ি কামিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু এ বিষয়টিতে অনেক বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে।’
‘নাপিতরা ব্যক্তি পর্যায়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করেন। চুল-দাড়ি কত বড় বা ছোট হবে, সেটা একেকজন মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে কারো নাক গলানো উচিৎ নয়।’
তবে মন্ত্রী খালিদ হানাফি এ যুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন। গত মাসে তিনি বলেন,
‘শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দাড়ি’ রাখার বিষয়ে কোনো আপত্তি শোনা হবে না। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ একেবারেই প্রাসঙ্গিক নয়।
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের এই পদক্ষেপ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
