আল-আকসায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে নামাজের অনুমতি ইসরায়েলের
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ১২:৫২ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
পবিত্র রমজান মাসের জুমার নামাজে অংশ নিতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি সীমিত সুযোগ তৈরি করেছে ইসরায়েল সরকার। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দখলদার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সাপ্তাহিক জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। রমজান শুরু হওয়ার পরপরই আরব নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়।
অনুমতি দিলেও মুসল্লিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বয়সসীমা আরোপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক বিষয়ক সংস্থা 'সিওজিএটি' (COGAT) জানিয়েছে, কেবল ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ এবং ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীরাই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ১২ বছর রাখা হয়েছে, তবে তাদের অবশ্যই প্রথম শ্রেণির কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে আসতে হবে।
কেবল বয়স হলেই হবে না, আল-আকসা চত্বরে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক মুসল্লিকে আলাদা করে সরকারি অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। রমজান মাসজুড়ে প্রতিটি জুমার নামাজের আগে এই বিশেষ পারমিট নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার মুসল্লির এই কোটা পূরণ হয়ে গেলে আর কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি বিবৃতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণকে 'টেম্পল মাউন্ট' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রমজান মাসে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা এড়াতে মসজিদ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে দখলদার বাহিনী। প্রতিবছরই রমজানে আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি পুলিশ ও ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঝুঁকি মাথায় রেখেই এবার সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের এই বিধিনিষেধমূলক অনুমতিকে অনেক ফিলিস্তিনি অধিকার হরণ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দাবি, আল-আকসা একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান এবং সেখানে যে কোনো বয়সের মানুষের ইবাদত করার অধিকার থাকা উচিত। ১০ হাজার মানুষের এই সীমিত কোটা লাখ লাখ মুসল্লির চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য বলে মনে করছেন স্থানীয় ইমাম ও নেতৃবৃন্দ।
রমজান মাসে জেরুজালেমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে প্রায়ই ইসরায়েলকে আল-আকসায় নির্বিঘ্নে ইবাদতের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বর্তমান এই নিয়ন্ত্রিত অনুমতির ফলে পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
