ভারতে ৭০ দেশের নৌ মহড়ায় অংশ নিল বাংলাদেশ
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ১২:৪৮ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তমে আয়োজিত হয়েছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এই মহড়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭০টি দেশের নৌবাহিনী তাদের শক্তি ও বন্ধুত্বের নিদর্শন প্রদর্শন করে। সমুদ্রপথে শান্তি রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াতেই এই আন্তর্জাতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মহড়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে নৌবাহিনীর আধুনিক ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’। ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবারই জাহাজটি ভারতের উপকূলে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে নিজস্ব পতাকাবাহী যুদ্ধজাহাজ নিয়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সামরিক ও কূটনৈতিক সুসম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই মেগা ইভেন্টে অংশ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মতো ৭০টি দেশ। উল্লেখযোগ্য যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে ছিল ইন্দোনেশীয় ফ্রিগেট ‘কেআরআই বুং তোমো-৩৫৭’ এবং আমিরাতের ‘আল ইমারাত’। আয়োজক দেশ ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছে তাদের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’।
মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি এই আয়োজনকে সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি বিভিন্ন দেশের আস্থা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন। এবারের মহড়ার মূল থিম ছিল ‘সামুদ্রিক ঐক্য’। রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো আসলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ঐক্যের ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মু ভারতের ‘বিশ্ব পরিবার’ (Vasudhaiva Kutumbakam) নীতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সমুদ্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারত সব দেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্মিলিত এই নৌ-সংকল্প যে কোনো বৈশ্বিক বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক এই নৌ মহড়া কেবল শক্তিমত্তা প্রদর্শন নয়, বরং জলদস্যুতা রোধ, চোরাচালান বন্ধ এবং সমুদ্রপথে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়ানোর একটি মাধ্যম। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ বঙ্গোপসাগরসহ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের দৃঢ় অবস্থানের সাক্ষ্য দেয়।
