বৃহস্পতিবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৭ ১৪৩২   ০২ রমজান ১৪৪৭

রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে সুলভ মূল্যে প্রোটিন দেবে সরকার

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ১২:৪১ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

পবিত্র রমজান মাসে নিম্নআয়ের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করা।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই কার্যক্রমের আওতায় অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া যাবে। বর্তমানে বাজারে অগ্নিমূল্যের সময়ে এই বিশেষ কেন্দ্রে প্রতি ডজন ডিম মাত্র ৯৬ টাকা, প্রতি কেজি দুধ ৮০ টাকা এবং প্রতি কেজি মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে খোলা বাজারেও অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

 

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর উত্তরা, আজিমপুর ও মিরপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি স্পটে এই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে এই পণ্যগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই কার্যক্রম কেবল শুরুর কয়েক দিন নয়, বরং পুরো রমজান মাস জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

 

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতেও এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "আমরা চাই না রমজান মাসে প্রোটিনের অভাবে কোনো মানুষের কষ্ট হোক। নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে এটি আমাদের সরকারের একটি বিশেষ উপহার।" ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও মন্ত্রণালয়ের রয়েছে।

 

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, খুব শীঘ্রই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে একটি সমন্বিত 'টিমওয়ার্ক' হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এই কার্ডগুলোর মাধ্যমে সরকারি সুবিধা সরাসরি প্রকৃত হকদারদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

 

রমজান মাসে অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি এই সুলভ মূল্যের বিক্রয় কার্যক্রম বাজারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সিন্ডিকেট ভাঙার কাজও সমান্তরালে চলবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।