মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৫ ১৪৩২   ২৯ শা'বান ১৪৪৭

৬৫ বলে ১১০, রেকর্ড বই ওলট-পালট করে দেওয়া কে এই কানাডার যুবরাজ সিং

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত : ০৪:৪৮ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

নামের মহিমা কি শুধু শেক্সপিয়রের ‘গোলাপ’ তত্ত্বেই সীমাবদ্ধ? নাকি নামের গুণে কখনো কখনো ভাগ্যও বদলে যায়! উত্তরটা খুঁজতে আজ চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামের স্কোরবোর্ডের দিকে চোখ রাখুন। সেখানে যুবরাজ সিং নামে একজনকে খুঁজে পাবেন। প্রথমবার নামটা দেখার পর খটকা লাগাটাই স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, গুগল সার্চ দিয়ে একটু নিশ্চিত হই।

 

তারপর দেখবেন, নিউজিল্যান্ডের বোলারদের তুলোধোনা করা সেই দীর্ঘদেহী বাঁহাতি ওপেনারের নাম আসলেই যুবরাজ সিং। তবে ভারতের সেই বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি নন, তিনি কানাডার ১৯ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার যুবরাজ সিং সামরা। শুধু নামের মিল নয়, ব্যাটের দাপটেও যেন তিনি ২০১১ বিশ্বকাপের নায়কের প্রতিচ্ছবি। আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৫ বলে ১১০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সহযোগী কোনো দেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন।

 

রেকর্ডের রাজপুত্র

  • ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান (আহমেদ শেহজাদের রেকর্ড ভেঙেছেন)
  • ওয়ানডে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান পল স্টার্লিংকেও পেছনে ফেলেছেন
  • সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি (১১৬ রান, দিলপ্রীত বাজওয়ার সঙ্গে)

 

বাবা বলজিৎ কামরা ভারতের সেই কিংবদন্তি অলরাউন্ডারের ভক্ত ছিলেন বলেই ছেলের নাম রেখেছিলেন যুবরাজ। এমনকি ছোটবেলায় ছেলেকে ডানহাতি থেকে বাঁহাতিও বানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছেলে যে একদিন বিশ্বমঞ্চে এমন ইতিহাস গড়বেন, বাবা কল্পনাও করতে পারেননি।

 

ব্র্যাম্পটন থেকে বিশ্বমঞ্চে কানাডার ব্র্যাম্পটনে জন্ম নেওয়া এই পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত তরুণের ক্রিকেটে হাতেখড়ি টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট লিগে। গত বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকেই প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছিলেন। বাহামার বিপক্ষে ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে জানান দিয়েছিলেন—তিনি ঝড়ো ব্যাটিংয়ের জন্যই জন্মেছেন। চেন্নাইয়ের মন্থর উইকেটে কিউইদের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরিটি তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।

 

ম্যাচের পরিণতি কানাডা আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান করে। কিন্তু নিউজিল্যান্ড তাড়া করে ফেলে ৮ উইকেট ও ২৯ বল হাতে রেখে। তৃতীয় উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্রর অবিচ্ছিন্ন ১৪৬ রানের জুটি কিউইদের সুপার এইটে নিয়ে যায়।

 

তবে দিন শেষে স্কোরবোর্ডে কানাডার হার যাই হোক, চিপকের দর্শক মনে রাখবেন এক নতুন ‘যুবরাজ’কে। যার প্রতিটি শট চিৎকার করে বলছিল—শুধু নামের মিল দিয়ে তিনি পরিচিত হতে রাজি নন। নামের মহিমা শুধু সাহিত্যে নয়, ক্রিকেটের মাঠেও লিখে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস।