সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২   ২৮ শা'বান ১৪৪৭

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন কোথায়?

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ১১:৫২ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে কাকে মন্ত্রী করা হবে তা নিয়ে এখন চলছে আলোচনা। বিরোধী দলে থাকছে জামায়াতসহ তাদের জোটের এমপিরা। মঙ্গলবার এমপি ও নতুন মন্ত্রীদের শপথ। এরপর নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সরকারি বাসভবনে উঠবেন।

 

নতুন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সমজাতীয় পদের ব্যক্তিদের জন্য ৭১টি সরকারি বাংলো ও বাসা রয়েছে। সেগুলো প্রস্তুতে তোড়জোড় চলছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন প্রস্তুত করার কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি কোথায় উঠবেন তা এখনো জানে না গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত করায় নতুন প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় উঠবেন—এমন কথাবার্তা শোনা গেলেও তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আবাসন পরিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী রোববার যুগান্তরকে জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রী কোন বাসায় উঠবেন তা এখনো আমাদের জানানো হয়নি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সংস্কার কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। এটা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। তিনি সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তর বাসা সংস্কারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

 

এ বিষয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন—প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য সরকারের ৭১টি বাংলোর মধ্যে অর্ধেক খালি। সেগুলো বসবাসের উপযোগী। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলেই বসবাস করা যাবে। বাকি বাসাগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তারা বাসাগুলো ছাড়লে সেগুলো প্রস্তুত করা হবে। তখন নতুনরা উঠতে পারবেন।

 

মো. আসাদুজ্জামান আরও জানান, শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা বাসাসহ অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্যতা অর্জন করেন। কোনো কারণে তাদের বাসা বুঝিয়ে দিতে দেরি হলে পদ অনুযায়ী সরকারি ভাতা পাবেন তারা। সরকারি বাসা বরাদ্দসংক্রান্ত তিনটি কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সমপদের ব্যক্তিদের বাসা বরাদ্দ দেন। কমকর্তা ও কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ দেন অন্য দুটি কমিটি।

 

মঙ্গলবার সংসদ-সদস্যদের পর সম্ভাব্য মন্ত্রীদের শপথের পরই নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। নতুন মন্ত্রীদের যথাসময়ে বাসা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আবাসন পরিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সমমানের ব্যক্তিদের জন্য রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন এলাকা ও গুলশানে বাসা রয়েছে। সেগুলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে। এগুলোর বরাদ্দ দেয় সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত। এসব বাসার মধ্যে ২৯ মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন নির্দিষ্ট। ওই বাসায় থেকেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাও। এবার সেখানে উঠবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ছেড়ে যাওয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দুজন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ সহকারী বাসা ছেড়েছেন। এ তালিকায় আছেন—উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীও সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন।

 

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের পরই সরকারি বাসভবন বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত সরকারের সদস্যদের জন্য সরকারি বাসভবন প্রস্তুতির কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে।