`হ্যাঁ` জয়ী হলেও জুলাই সনদের কিছু বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে না
তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন
প্রকাশিত : ০৯:৫৪ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬২ শতাংশের বেশি ভোটার 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছেন। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ভোটার। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে গেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধানসম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো অনুযায়ী সংস্কার আনবেন তাঁরা।
সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ৪৭টি ছিল সাংবিধানিক। বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি ছিল।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে জুলাই সনদের যে সব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট নেই, সে সব প্রশ্নে সংস্কারগুলো নিয়ে তেমন কোনো সংকট দেখছেন না সংবিধান বিশ্লেষকরা।
তবে দুইকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপি তাদের ইশতেহারে সংসদের আসন সংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করার কথা বলেছে। এর বিপরীতে গণভোটের প্রশ্নে সরাসরি সংসদের উচ্চকক্ষের গঠনের কথা বলা হয়েছে আনুপাতিক হারে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার সাংবাদিকে বাংলাকে বলেন, “বিএনপি যে ইশতেহার দিয়েছে সেটি কোনো ভোটের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের সামনে হাজির করা হয়নি। কিন্তু সংসদের উচ্চকক্ষ আনুপাতিক ভোটের হারে গঠনের বিষয়টিতে সরাসরি মানুষ ভোট দিয়েছে।”
এছাড়া জুলাই সনদের বেশ কিছু সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট থাকায় গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়লাভ করার পরও সেগুলো বাস্তবায়ন হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও সংস্কার প্রক্রিয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ থেকে যাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে জনগণের সরাসরি রায়কে সম্মান করে সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
