চরফ্যাশনে খাসি খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে কুপিয়ে হত্যা
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৫:০৮ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার
ভোলার চরফ্যাশনে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুর রহিম (৪৫)। তিনি একসময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হত্যার আগের দিন তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৪ আসনে (মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলা) জয়ী বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের (নয়ন) অনুসারী।
নিহত আবদুর রহিম রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আখতারুজ্জামানের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। শশীভূষণ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে তাঁর সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবে হত্যার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম জানান, আবদুর রহিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আবদুর রহিমের মেয়ে বিবি রহিমা বলেন, “বাড়ির উত্তরে আসার পর সন্ত্রাসীরা আমার বাবার ডান ও বাঁ কাঁধ বরাবর গলায় দুটি এবং মাথায় কপাল বরাবর আরেকটি কোপ দেয়। বাবা আল্লাগো বলে চিৎকার দেয়। আমরা সবাই দৌড়ে এসেছি বাড়ি থেকে। আইসা দেখি বিল্লাল হোসেন নতুন রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বাবাকে যারা খুন করেছে, আমরাও তাদের ফাঁসি চাই। আমার বাবার খুনি আমজাদ হোসেন, বিল্লাল হোসেন ও সম্রাট। ওরা মাদক ব্যবসায়ী। আমার বাবা মাদক খায়, কিন্তু মাদক ব্যবসা করে না।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতের পরিবারের অধিকাংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিনের (আলম) অনুসারী। কিন্তু এবারের নির্বাচনে নাজিম উদ্দিন মনোনয়ন চেয়েও পাননি। বিএনপির প্রার্থী হয়ে আসনটিতে জয় পেয়েছেন নুরুল ইসলাম (নয়ন)। স্থানীয় বিএনপিতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
আবদুর রহিমের ভাই মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বাড়ির সবাই বিএনপির অনুসারী। আমার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে আমার ছোট ভাই আবদুর রহিম আওয়ামী লীগকে পছন্দ করত, কিন্তু সক্রিয় না। সে মাটি কাটার কাজ করে, গাইগিরস্থি করে আর ছাগল পালন করত।”
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগের দুই রাতে জোর করে আবদুর রহিমের দুটি খাসি জবাই করে খেয়ে ফেলেন আমজাদ হোসেন, বিল্লাল হোসেন, সম্রাটসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন। তারা ভোলা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলামের (নয়ন) অনুসারী হিসেবে পরিচিত। খাসি খাওয়ার প্রতিবাদ করলে প্রথমে আবদুর রহিমের ছেলে আমির হোসেনকে গত শুক্রবার রাতে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাঁর মুখের হাড় ও চোয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, নিহত আবদুর রহিম একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। খাসি খাওয়া ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের লোকজন লাশ দাফন করে মামলার প্রস্তুতি নেবেন। চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামাল গোলজার বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-আওয়ামী লীগের কোনো যোগসাজশ নেই। এ হত্যাকাণ্ড মাদক বিক্রি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
