নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে গঠন, টেকনোক্র্যাট কোটায় বেশ কয়েকজন
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৫:১৯ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটাতেও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও মেধাবী নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রিসভার আকার ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের মধ্যে সীমিত রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী, মোট মন্ত্রীর সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। টেকনোক্র্যাট কোটায় সম্ভাব্য নাম দলীয় সূত্র বলছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সেলিমা রহমান। তারা সংসদ সদস্য না হলেও দলের দীর্ঘদিনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় আরও স্থান পেতে পারেন:
- রুহুল কবির রিজভী (সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব)
- হাবিব-উন-নবী খান সোহেল (যুগ্ম মহাসচিব)
- হুমায়ুন কবীর
- অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল (মিডিয়া সেল আহ্বায়ক)
- মাহদী আমিন (চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা)
- আমিনুল হক (ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বায়ক)
- ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার (চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা)
মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সম্ভাব্য নাম নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
এছাড়া নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, শরীফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আফরোজা খান রিতা, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, ড. রেজা কিবরিয়া, মো. মোশাররফ হোসেন ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মিত্র দল থেকে সম্ভাব্য নাম মিত্র দলগুলোর মধ্য থেকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনায় আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুর। এছাড়া নির্বাচনে পরাজিত হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় নাম আসতে পারে মাহমুদুর রহমান মান্নাও।
দলীয় নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েই টেকনোক্র্যাট কোটার চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। শপথের দিনই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বিএনপির এই প্রস্তুতি নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
