১৭ বছর নির্বাসনের পর ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৫:৫০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত জরিপগুলোতে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে তার জনসভায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়কে বিএনপির নেতারা দলটির পুনরুত্থানের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কোণঠাসা হয়ে থাকা বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে, যেখানে তারেক রহমানের সক্রিয় নেতৃত্ব কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই প্রবল জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তার নেতৃত্ব নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ ও সংশয়ও দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় দেশের তৃণমূল রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তার দলের কিছু সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে প্রায় ৮০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার বড় অংশে দলীয় কর্মীদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে। এছাড়া নির্বাচনি বক্তব্যে কিছু তথ্যগত ভুল এবং বিশাল অংকের বৃক্ষরোপণ বা বেকার ভাতার মতো উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে তার প্রস্তুতির ঘাটতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনি ইশতেহারে তারেক রহমান একগুচ্ছ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা এবং দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ। তিনি প্রান্তিক পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের অঙ্গীকার করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, দলের পুরনো ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠে তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
১২ তারিখের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং তারেক রহমানের জন্য এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা—যেখানে নির্ধারিত হবে তিনি কি কেবল তার পারিবারিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, নাকি প্রকৃত অর্থেই উত্তর-হাসিনা বাংলাদেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠতে পারবেন। আল জাজিরার এই বিশ্লেষণে তারেকের প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক পুনরুত্থান হিসেবে দেখা হয়েছে, কিন্তু দলীয় ঐক্য ও প্রস্তুতির অভাবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল তার নেতৃত্বের সত্যিকারের পরীক্ষা হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
