তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৭৫ আসনে: প্রাক নির্বাচনী জনমত জরিপ
মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৬:৫১ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি উদ্যোগে প্রজেকশন বিডি ও জাগরণ এর সহযোগিতায় প্রাক নির্বাচনী জনমত জরিপ পরিচালনা করা হয়৷ এই জরিপের মূল লক্ষ্য হলো জনসাধারণের মনোভাব ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান বিষয়গুলো চিহ্নিত করা। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য ভোটের ধরনের পূর্বাভাস প্রদান এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনসমর্থন পরিমাপ করাও এই বিশ্লেষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জরিপ পরিচালনার জন্য ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রত্যেকটিকে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট বা স্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়েছে:•·প্রথম ধাপ: প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার অভ্যন্তরে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডগুলোকে 'প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট' (PSU) হিসেবে দৈবচয়ন বা র্যান্ডম পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হয়েছে।দ্বিতীয় ধাপ: নির্বাচিত স্থানগুলো থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০-৩০ জন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এভাবে প্রতি নির্বাচনী এলাকায় মোট ১০০-৩০০ জন উত্তরদাতার নমুনা বা স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে।জরিপে অংশগ্রহণকারীদের তথ্য: ৬৩ হাজার ১১৫ জনের মতামত নেওয়া হয়৷ তার মধ্যে ৩৬ হাজার ৬৩৪ জন পুরুষ যা ৫৭.৫৯ ভাগ এবং ২৬ হাজার ৯৮১জন নারী অংশ নেন যা ৪২ দশমিক ৪১ ভাগ৷বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৮-২৯ বছরের মধ্যে ছিলেন ১৭ হাজার ৪৮১জন, যা মোট অংশগ্রহণকারীদের ২৭.৪৮ ভাগ। ৩০-৪৪ বছর বয়সী ছিলেন ২৬ হাজার ২৪৩ জন যা ৪১.২৫ ভাগ। আর ৪৫-৫৯ বছর বয়সী ছিলেন ১৫ হাজার ১১৭ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ছিলেন ৪ হাজার ৭৭৪ জন যা যথাক্রমে ২৩.৭৭ ভাগ এবং ৭.৫০ ভাগ।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ ভাগ মানুষই ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। আর ভোট দেবেন না বলেছেন ৪ ভাগ এবং সিদ্ধান্ত নেননি আড়াই ভাগ মানুষ।আর নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রব্যমূল্যর দাম নিয়ন্ত্রণ চান ৬৭ ভাগ মানুষ, আইনশৃখলার উন্নতি চান ৫৩ভাগ, দুর্নীতি বন্ধ চান ৫২ ভাগ, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি ৪৮ ভাগ মানুষ। আর চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চান ৩৭ ভাগ মানুষ৷ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭১ ভাগ মানুষ প্রার্থীর যোগ্যতা এবং ৪৭ ভাগ মানুষ দলীয় আদর্শ দেখে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। এ ছাড়া জুলাই ভূমিকা (২৩ শতাংশ), দলীয় অভিজ্ঞতা ( ৩৬ শতাংশ), উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ( ৩১ শতাংশ), চাদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান (১৮ শতাংশ) বিবেচনার কথা বলেছেন।জরিপের ফলাফলজোট ভিত্তিক সমর্থনে বিএনপি জোটকে ৪৪.১ ভাগ এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোটকে প্রতি ৪৩.৯ ভাগ মানুষ সমর্থন দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির জোটের প্রতি সমর্থন মাত্র ১.৭ঃ এবং সিদ্ধান্ত নেননি সাড়ে ৬ ভাগ।
লিঙ্গভিত্তিক সমর্থনে ৪৭ ভাগ পুরুষ বিএনপি জোটকে এবং ৪২ ভাগ পুরুষ জামায়াত জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। আর নারীদের মধ্যে ৪৬ ভাগ জামায়াত জোটকে এবং ৪২ ভাগ বিএনপি জোটকে সমর্থন দিয়েছেন।অন্যদিকে বিএনপি জোটকে ৪৬ ভাগ নগরের এবং ৪২ ভাগ গ্রামের ভোটাররা সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে জামায়াত জোটকে ৪৩ ভাগ নগরের এবং ৪৫ ভাগ গ্রামের ভোটাররা সমর্থন করেছেন।অর্থাৎ পুরুষ ও নগরের ভোটারদের মধ্যে বিএনপি জোট এবং নারী ভোটার ও গ্রাম পর্যায়ে জামায়াত জোট এগিয়ে আছে।ধর্মভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, বিএনপি জোটকে ৪৩ ভাগ এবং জামায়াত জোটকে ৪৬ ভাগ ইসলাম ধর্মের মানুষ সমর্থন দিয়েছেন। আর হিন্দু ধর্মের ৫৫ ভাগ সমর্থন বিএনপি জোটে এবং ২৮ ভাগ জামায়াত জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মের ৩২ ভাগ বিএনপি জোট এবং ৪৩ ভাগ জামায়াত জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে ৩৪ ভাগ বিএনপিকে এবং ১০ ভাগ জামায়াত জোটের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।
ধর্মভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, বিএনপি জোটকে ৪৩ ভাগ এবং জামায়াত জোটকে ৪৬ ভাগ ইসলাম ধর্মের মানুষ সমর্থন দিয়েছেন। আর হিন্দু ধর্মের ৫৫ ভাগ সমর্থন বিএনপি জোটে এবং ২৮ ভাগ জামায়াত জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মের ৩২ ভাগ বিএনপি জোট এবং ৪৩ ভাগ জামায়াত জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে ৩৪ ভাগ বিএনপিকে এবং ১০ ভাগ জামায়াত জোটের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসলাম ধর্ম ও খ্রিষ্টান ধর্মের ভোটারদের মধ্যে জামায়াত জোটের সমর্থন বেশি। আর হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের ভোটারদের মধ্যে বিএনপি জোটের সমর্থন বেশি।
বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৮-২৯ বয়সীদের ৫১ ভাগ জামায়াত জোটকে, ৩৮ ভাগ বিএনপি জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। আর ৩০ থেকে ৪৪ বয়সীদের মধ্যে ৪৭ ভাগ বিএনপি জোটকে এবং ৪২ ভাগ জামায়াত জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। আর ৪৫-৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৮ ভাগ বিএনপিকে, ৪০ ভাগ জামায়াত জোটকে এবং ৬০ বয়সের উপরে ৪৪ ভাগ বিএনপি ও ৪২ ভাগ জামায়াত জোটকে সমর্থন দেন।শিক্ষাগত যোগত্যতার দিক থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ৪৯ ভাগ বিএনপিকে, ৩৯ ভাগ জামায়াত জোটকে, এবং প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্নকারীদের মধ্যে বিএনপি জোটের প্রতি সমর্থন ৪৯ ভাগ আর জামায়াত জোটের প্রতি সমর্থন ৩৮ ভাগ ৷
মাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতাধারীদের মধ্যে ৪৪ ভাগ বিএনপি জোট ও ৪৩ ভাগ জামায়াত জোট এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে ৪২ ভাগ বিএনপি জোট ও ৪৮ ভাগ জামায়াত জোটের প্রতি সমর্থন দেন।আর গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৫১ ভাগ জামায়াত জোটকে এবং ৩৭ ভাগ বিএনপি জোটকে সমর্থন করেন৷ আর প্রোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে ৫১ ভাগ জামায়াত জোটকে এবং ৩৮ ভাগ বিএনপি জোটকে সমর্থন দেন।বিএনপি জোটের প্রতি সমর্থনের পেছনে কারণে হিসেবে ৮৪ ভাগ মানুষ দেশ পরিচালনার অতীত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। আর জামায়াত জোটের প্রতি সমর্থনের কারণ হিসেবে সততা ও দুর্নীতি করার মনোভাব কম উল্লেখ করেছেন। আসনভিত্তিক ফলাফলে জামায়ত জোট ১০৫ এবং বিএনপি জোট ১০১ জয়লাভ করতে পারে। আর ৭৫ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে দুই জোটের প্রার্থীদের মধ্যে। এর বাইরে অন্যরা ১৯ আসনে জয় লাভ করতে পারেন।গণভোটের প্রতি সচেতন আছে জরিপে অংশ নেওয়া ৭৪.৯ ভাগ মানুষ এবং আর সচেতন নয় ২৫.২ ভাগ মানুষ। আর গণভোটে হ্যা দেওয়ার কথা বলেছেন ৮৯.৬ ভাগ এবং না এর কথা বলেছেন ৯.১ ভাগ মানুষ ।
