সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৭ ১৪৩২   ২১ শা'বান ১৪৪৭

‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত পাবেন না’-মির্জা ফখরুল

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৬:৩৪ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে পথসভায় বক্তৃতা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে পথসভায় বক্তৃতা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ভকদগাজীতে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি বলেন, মা-বোনদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ হবে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচিত হলে সবার আগে আমি আমার মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। নারী জাগরণ শুরু হয়েছে, আপনারা আজ অনেক বেশি সজাগ।”

 

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও ইপিজেড তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া প্রথম বছরের মধ্যেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “একটি দল ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা বলছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ! এই ধরনের কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।”

 

হেফাজতে ইসলাম ও চরমোনাই পীরের উদ্ধৃতি টেনে তিনি আরও বলেন: “হেফাজতের আমির বলেছেন জামায়াতকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ। চরমোনাই পীর তাদের মিথ্যাবাদী বলেছেন। এমন দলকে ভোট দিলে আমরা ইমান নষ্ট করে ফেলব।” আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নতুনভাবে সক্রিয় হওয়া প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “নৌকা না থাকায় এখন নতুন এসেছে দাঁড়িপাল্লা। তারা নতুন এসেছে, মানুষের কাছে যাক, শিখুক।”

 

তিনি ১৯৭১ সালের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে ধারণ করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার লক্ষ্যে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। ব্যক্তিগত আবেগ জড়িয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটিই আমার শেষ নির্বাচন। আমি আগে অনেক নির্বাচন করেছি, জিতেছি আবার হেরেছিও; কিন্তু আপনাদের ছেড়ে যাইনি। আমাকে শেষবারের মতো কাজ করার সুযোগ দিন।” তিনি সংস্কার বাস্তবায়ন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং একটি শোষণমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।