নির্বাচন ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০২:২৩ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ছবি: সংগ্রহীত
ঢাকা মহানগরীতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি তুলে ধরতেই এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভালো রয়েছে এবং নির্বাচন ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর এলাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকি ও গুরুত্বের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে চারজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে থাকবেন তিনজন করে পুলিশ সদস্য। এছাড়া ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে সাতজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরও জানান, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে পুলিশ। সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন,
“নানা কারণে এবাবের নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেই কালিমামুক্ত হতে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেই ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ধারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছে তা এগিয়ে নিতে আমরা ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“নাগরিকদের কাছে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। … আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন।”
ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ আসন নিয়ে সেনাবাহিনীর তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন,
“আমরা সেভাবে এনালাইসিস করিনি। আমরা এনালাইসিস করেছি, ঢাকা মেট্রোপলিটনে দুই ধরনের কেন্দ্র থাকবে। একটি হলো গুরুত্বপূর্ণ, আরেকটি হলো সাধারণ।”
নির্বাচন ঘিরে কোনো থ্রেট আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“কোনো থ্রেট নেই। পরিবেশ দেখছেন না। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো পরিবেশ চলছে। অপরাধ নেই, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নেই, রাস্তাঘাট অবরোধ নেই। খুবই ভালো পরিবেশ।”
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন,
“নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে।”
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি জানান,
“আমাদের সার্বিক যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সেখানে সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমার কলিগ সবাই আছে। … কারও নিরাপত্তাহানি ঘটবে আমরা মনে করি না, আমি শতভাগ নিশ্চিত করছি।”
পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“গত ১৫ মাস আমি ডিএমপির কমিশনার। আপনারা কি দেখেছেন, আমরা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছি?”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার লাঠি হাতে থাকা ভিডিও এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন—
“আমি ছুটির দিনে বাসায় ইনফরমাল ড্রেসে চুল কাটাচ্ছিলাম। যখন শুনতে পেলাম আন্দোলনকারীরা যমুনায় ঢুকে পড়ছে, আমি অন্য কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই চলে এসেছি… সরকারপ্রধানের বাসভবনে যখন আন্দোলনকারীরা ঢোকার চেষ্টা করছিল, তখন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমার বসে থাকার সুযোগ আছে কিনা?”
