এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৮:২২ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কাতারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। আশিক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ তারা একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এতে তারা আলোচনা বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তবে চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করতে তাদের আরও সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে আলোচনা চলমান থাকলেও সিদ্ধান্ত নেয়া এখনো সময় সাপেক্ষ বলে জানান বিডা চেয়ারম্যান। তার মতে, যেহেতু আমাদের হাতে আর দুই কার্যদিবস সময় আছে। তাই আশা করছি এ আলোচনা এ সরকার পার হয়ে, নির্বাচন পার হয়ে আগামী দিনেও চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি ফলপ্রসূ হবে।
বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট অব্যাহত এদিকে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মবিরতির ফলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন এবং বহির্নোঙরসহ (আউটার লাইটারেজ) সব জায়গায় পণ্য খালাস ও পরিচালনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, সকাল ৮টা থেকে বন্দরে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে। প্রেক্ষাপট এর আগে, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরবর্তীতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে তারা আন্দোলন চালিয়ে নেন।
অবস্থান কর্মসূচি, কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছেন বন্দরের কর্মীরা। দেশের মোট রফতানির ৯১ শতাংশই হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। টানা আন্দোলন ও কর্মসূচির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে রফতানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে আমদানি পণ্য খালাস না হলে গ্রাহক পর্যায়ে এর প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।
