ওয়াশিংটন পোস্ট সিইও উইল লুইস পদত্যাগ করলেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:২৪ এএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রকাশক উইল লুইস অবিলম্বে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন এই ১৪৫ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পাঠক ও সাংবাদিকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ার কয়েক দিনের মাথায় তাঁর সরে দাঁড়ানোর এ খবর দিয়েছে পত্রিকাটি নিজেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রগুলো বর্তমানে ব্যবসায়িক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুই বছরের মেয়াদে উইল লুইসের ব্যবস্থাপনা গ্রাহক ও সংবাদকর্মী—উভয় পক্ষেই ভীষণভাবে সমালোচিত হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টায় তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিতর্ক ছিল তীব্র। ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিক লুইসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন জেফ ডি’ওনোফ্রিও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টাম্বলারের সাবেক সিইও এবং গত বছর চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার হিসেবে ওয়াশিংটন পোস্টে যোগ দেন। ডি’ওনোফ্রিওর এ নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সহকর্মীদের পাঠানো এক ইমেইলে লুইস বলেছেন, “আমার জন্য সরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়।” ইমেইলটি ওয়াশিংটন পোস্টের একজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্টে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কয়েক শ সাংবাদিক চাকরি হারান। এর মধ্যে স্থানীয় ও ক্রীড়া বিভাগ এবং বৈদেশিক শাখার অধিকাংশ কর্মী রয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮০০ সাংবাদিকের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
এই ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সংবাদপত্রটির সদর দপ্তরের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন ইউক্রেনের কিয়েভভিত্তিক প্রতিনিধি এবং মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরোর পুরো দলকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খেলাধুলা, গ্রাফিক্স ও স্থানীয় সংবাদ বিভাগগুলো ছোট করে আনা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে সংবাদপত্রটির নিয়মিত পডকাস্ট ‘পোস্ট রিপোর্টস’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বিজ্ঞাপন ও গ্রাহক সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ছাপা কাগজের বিজ্ঞাপনী আয়ের সেই সোনালি দিনের তুলনায় বর্তমানে আয় এখন খুবই নগণ্য। তবে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো জাতীয় দৈনিকগুলো এই প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরতে পেরেছে। কিন্তু পেছনে একজন ধনকুবের মালিক থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন পোস্ট তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের গত মাসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমলা হ্যারিসকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ২ লাখ ৫০ হাজার ডিজিটাল গ্রাহক ওয়াশিংটন পোস্টের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন ও গ্রাহক আয় কমে যাওয়ায় ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ কোটি ডলার লোকসান করেছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মার্টি ব্যারন বলেন, এই গণছাঁটাইয়ের ঘটনাটি ‘বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার দিনগুলোর একটি।’ সম্পাদকীয়তে হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে বেজোস ও লুইসের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে বেজোস পত্রিকাটির উদারপন্থী সম্পাদকীয় বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করেন ও ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানানো বন্ধ করে দেন। এ ঘটনাকে সম্পাদকীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
