শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৫ ১৪৩২   ১৯ শা'বান ১৪৪৭

হামাসকে সমর্থনের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সহায়তা বন্ধ

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৩:৪৭ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ছবি: রয়টার্স 

 

বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে চুকিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পেন্টাগন জানিয়েছে, হার্ভার্ডে চলমান সব প্রকার সামরিক প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম অবিলম্বে বাতিল করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ পেন্টাগনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

বিবৃতিতে পিট হেগসেথ হার্ভার্ডের বর্তমান একাডেমিক পরিবেশের তীব্র সমালোচনা করে বলেন:

“পেন্টাগনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক বাহিনীকে এমন রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব থেকে দূরে রাখা যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সহায়ক নয়।”

 

তিনি হার্ভার্ডের অভ্যন্তরীণ শিক্ষার মান ও আদর্শ নিয়ে আরও কঠোর মন্তব্য করেন। হেগসেথ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ এবং ‘উদারপন্থি উগ্রবাদ’ দ্বারা আক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।

 

পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুল এবং বিজনেস স্কুলে চলমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম সরাসরি মুখ থুবড়ে পড়বে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফেলোস প্রোগ্রাম’। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হার্ভার্ড থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেন।

 

হেগসেথের অভিযোগ অনুযায়ী, হার্ভার্ড ক্যাম্পাস এখন আর প্রথাগত মূল্যবোধের চর্চা করে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন:

“হার্ভার্ড ক্যাম্পাস এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর গৌরব উজ্জ্বল করার পরিবর্তে সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় এবং প্রথাগত মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটানো হয়।”

 

এছাড়া গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা ‘হামাসপন্থি’ আন্দোলন এবং ইহুদিবিদ্বেষ দমনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে এই বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পেন্টাগন।

 

এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে তারা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, দশকের পর দশক ধরে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জাতীয় প্রতিরক্ষায় বড় অবদান রেখে আসছিল।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেন্টাগনের এই অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা হার্ভার্ডের জন্য কেবল মর্যাদাহানিই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানকে ওয়াশিংটনের অভিজাত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের চাপ প্রয়োগের একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।