অনির্দিষ্টকালের জন্য অচল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৩:৩০ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন
দেশের অর্থনীতি সচল রাখার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর আগামীকাল (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে লাগাতার ধর্মঘটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বিদেশি কোম্পানিকে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এই কঠোর কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এবার কেবল জেটি নয়, বন্দরের বহির্নোঙরেও সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন এই চরম সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়করা জানান, বন্দরের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতেই তারা এই আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের ভাষ্য:
“দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরকে কোনোভাবেই বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা মেনে নেবে না। বন্দরের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।”
সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।”
তাদের দাবি, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (NCT) কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট ঘোষণা প্রদান। আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রকার আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণ।
এর আগে কয়েক দফা কর্মবিরতি ও অবরোধের ফলে বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সেই আলোচনায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা দাবি আদায়ের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ফলে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
