জাপানের সঙ্গে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করল
তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন
প্রকাশিত : ০৪:৫৯ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
জাপানের সঙ্গে ঐতিহাসিক এক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাপানের রাজধানী টোকিওতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই পক্ষ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বাংলাদেশের জন্য এটি ঐতিহাসিক, কারণ এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ইপিএ বা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি।
জাপান পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ এই দেশে গার্মেন্টসসহ ৭৩৭৯টি পণ্যের রপ্তানি সুবিধা পাবে কোনো শুল্ক ছাড়াই, আর এতে কোনো প্রকার জটিল শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়নি বলে জানায় তথ্য অধিদপ্তর। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ জাপানকে দেবে ১ হাজার ৩৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা। চুক্তি জাপানে বাংলাদেশি পেশাদারদের জন্য ১২০টি উপ-খাত উন্মুক্ত করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাপানি সংস্থাগুলির জন্য ৯৭টি উপ-খাত উন্মুক্ত করবে।
চুক্তির প্রধান সুবিধাসমূহ
- বাংলাদেশি পণ্যের (বিশেষ করে তৈরি পোশাক) জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
- জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে নতুন খাত উন্মুক্ত
- বাংলাদেশি পেশাদারদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি
- দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন চুক্তি স্বাক্ষরের পর বলেন, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি মাইলফলক। জাপানের মতো উন্নত দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি দেশের রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত এবং সেবা খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
