ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় সেনাটহল, নির্বাচন ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৭:০৯ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার ‘মৌলিক পরিবর্তন’ আসছে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা কৌশলে। অতীতের মতো কেবল 'স্ট্রাইকিং ফোর্স' হিসেবে দূরে অবস্থান না করে, এবার ভোটারদের ভরসা জোগাতে ভোটকেন্দ্রের ঠিক আঙিনা পর্যন্ত টহল দেবেন সেনাসদস্যরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মনজুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, এবারের নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য মাঠে কাজ করছেন। যেখানে গত নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হতো, সেখানে এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ২০ জানুয়ারি থেকেই এই মোতায়েন কার্যকর হয়েছে এবং নির্বাচনের পর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনগণের মধ্যে আস্থার অভাব দূর করতেই সরাসরি ভোটকেন্দ্রের কাছে টহল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুরুল ইসলাম বলেন, "অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত ও আস্থা ফিরিয়ে আনতেই বাড়তি সেনাসদস্য মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে।"
এত বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্যের মোতায়েনে যানবাহনের সংকট দেখা দিলেও থেমে নেই টহল কার্যক্রম। অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি যানবাহন ভাড়া করে টহল অব্যাহত রাখা হচ্ছে। মূলত ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জনবল ব্যারাকে রেখে বাকি সবাইকে মাঠে নামানোর নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান, যাতে করে সাধারণ মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।
সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের এই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, তাদের পরিশ্রমের একমাত্র লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো সময়জুড়ে সেনাবাহিনী টহল ও পর্যবেক্ষণ জারি রাখবে।
