বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

নতুন সংসদের শপথ ঘিরে নানা প্রশ্ন, আলোচনায় আ.লীগের দুইজন

তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ০৬:০৩ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করলেও নতুন সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়াতে পারবেন। সংবিধান অনুযায়ী এতে কোনো বাধা নেই। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মাত্র একটি মামলা আছে—রংপুরের পীরগঞ্জের হত্যা মামলা। যদি আদালত তাকে জামিন দেন এবং সরকার চাইলে তিনি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন। রাজনৈতিক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তী এই ধরনের ঘটনাকে অবাক হওয়ার কিছু মনে করা যাবে না।

 

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের পর বিদায়ি সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াবেন। তাদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে কারাগারে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুও প্যারোলে মুক্তি দিয়ে শপথ পড়ানো যেতে পারে। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনও বিদায়ি স্পিকারের সভাপতিত্বে হবে; তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি দায়িত্ব নেবেন।

 

এদিকে এর বাইরে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। জাতীয় সংসদ পরিচালিত হয় যে কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে, সেখানে দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৫-এর ১ দফায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তিরও শপথ পড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার যদি সাবেক স্পিকারের সাংবিধানিক উল্লিখিত সুযোগকে কাজে লাগাতে না চায়, সেক্ষেত্রে শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। এ বিষয়ে সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদের ২(ক) দফায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে।

 

সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে বিকল্প একাধিক প্রস্তাব উত্থাপন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি পাঠানোর আগে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে একাধিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদের ২(ক) দফা অনুসরণ করে সিইসিকে এ দায়িত্ব দিতে চাইলেও এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির মতামত নিয়ে আদেশ জারি করতে হবে। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধান আমাদের সংবিধানেই দেওয়া আছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেওয়া আছে। তাই এ নিয়ে অযথা বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই।

 

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, “বিদায়ি সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি কিংবা তাদের অপারগতায় নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে শপথ পড়াবেন, সেজন্য আবার রাষ্ট্রপতির আদেশ প্রয়োজন হবে। তাই এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। আর এ কাজটি সংসদ সচিবালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন করবে।”

 

শপথের সম্ভাব্য দৃশ্যপট

  • বিদায়ি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করলেও নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়াতে আইনি কোনো বাধা নেই।
  • তবে তিনি আত্মগোপনে থাকায় এবং তার বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকায় সরকার চাইলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা সিইসি শপথ পড়াতে পারেন।
  • কারাগারে থাকা ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুকেও প্যারোলে মুক্তি দিয়ে শপথ পড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
  • নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বিদায়ি স্পিকারের সভাপতিত্বে বসবে। তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি দায়িত্ব নেবেন।

 

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দেশ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর এই সরকারের অধীনেই ১৭ মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এই ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ এবং তাদের শরিক ১৪ দল ছাড়াই এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতই হচ্ছে একে-অপরের মূল প্রতিপক্ষ।

 

নতুন সংসদের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে চলমান আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে আর কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তাবের ওপর রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে।