বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড: সাবেক এমপিসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০২:০৯ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।  ছবি: সংগ্রহীত 

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়াসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিনজন হলেন, সাবেক ডিআইজি নুরুল ইসলাম, এসআই মালেক এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি।

 

রায়ে আদালত কেবল সাজাই ঘোষণা করেননি, বরং মানবিক এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে বণ্টন করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা ৮ আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর ১২টা ৫০ মিনিটে শুরু হয় রায় পড়া। প্যানেলের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর সংক্ষিপ্ত রায়টি পাঠ করেন। মামলার বিবরণে উঠে আসে সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা, যেখানে শহীদ হয়েছিলেন, "শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।"

 

বিচারিক প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, মামলার মোট ১৬ জন আসামির মধ্যে ৮ জন এখনো পলাতক, যাদের মধ্যে সাবেক এমপি সাইফুল ও ডিআইজি নুরুল ইসলামও রয়েছেন। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এসআই শেখ আবজালুল হক নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ৩১৩ পৃষ্ঠার মূল অভিযোগ এবং ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি পর্যালোচনার পর আদালত এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।

 

এই রায়কে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় গড়ে তোলা হয় দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও মোতায়েন ছিলেন রাজপথে। এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে ডিবির হারুনসহ আরও ১০ শীর্ষ কর্মকর্তার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।