বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ১০:৩৪ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার মামলা সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এই তদন্তের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও বিষয়টি কতটা মিটে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে এই বিতর্ক পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিচার বিভাগের তদন্ত শেষ হলেও কংগ্রেসের বিশেষ তদন্ত কমিটি এবং ভুক্তভোগীদের অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি হোয়াইট হাউসের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত রোববার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নতুন কোনো মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। বিপুল পরিমাণ ইমেল, ছবি ও নথিপত্র হাতে থাকলেও সেগুলো কাউকে নতুন করে অভিযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু বিচার বিভাগের এই নথিতে সন্তুষ্ট নয় মার্কিন প্রতিনিধি সভা। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এই ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে তলব করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এমনকি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছুই পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে এসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার।” তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই দাবি পুরোপুরি নির্ভুল নয়। প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ছয় হাজারেরও বেশিবার এসেছে। যদিও নব্বইয়ের দশকের পর তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেন। কিন্তু ২০১১ সালে এপস্টেইনের লেখা একটি ইমেল নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই ইমেলে এপস্টেইন লিখেছিলেন যে, ট্রাম্পের বিষয়টি এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

 

শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন, এই নথির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিত্ব। বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের এই নথিতে তাদের নামের উপস্থিতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং ল্যারি সামারসের মতো ব্যক্তিরা ইতোমধ্যেই তাদের এপস্টেইন সংযোগের কারণে সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির নথি প্রকাশের পর বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি স্বচ্ছতার পদক্ষেপ। অন্যরা বলছেন, এতে প্রভাবশালীদের রক্ষা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এখনো ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও এই কেলেঙ্কারির প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।