এআই চ্যাটবট গ্রকের বিরুদ্ধে নারী-শিশুর অশ্লীল ছবি তৈরির তদন্ত শুর
প্রকাশিত : ০৮:০৫ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান রূপকার ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রকের বিরুদ্ধে শিশু ও নারীর কয়েক লাখেরও বেশি অশ্লীল, খোলামেলা ছবি তৈরির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে নতুন রিপোর্ট ঘিরে।
যে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে এমন সব অ্যাপ এখনো রয়ে গেছে, যারা নারী ও শিশুর নগ্ন ছবি এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করতে পারে। যদিও দুই সংস্থাই এর আগে জানিয়েছিল—এ ধরনের কোনো অ্যাপ তাদের স্টোরে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্টের দাবি এর বিপরীতমুখী।
কীভাবে সামনে এলো বিষয়টি? আসলে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর নজর রাখা একটি অলাভজনক সংস্থা টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছিল। আর সেই তদন্তেই সন্ধান মিলেছে এমন সব অ্যাপের।
এ রিপোর্ট এমন একসময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যখন এআই ব্যবহার করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারী ও শিশুর আপত্তিকর ছবি-ভিডিও বানানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে—গুগল প্লে স্টোরে ৫৫টি এবং অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে ৪৭টি এমন ধরনের অ্যাপের সন্ধান মিলেছে। কিছু অ্যাপ পুরোপুরি নগ্ন ছবি তৈরি করে থাকে।
আবার বাকিগুলো বিকিনি বা অন্তর্বাস পরিয়ে দেয়। এবং এও বলা হয়েছে, এগুলো খুঁজে বের করার জন্য খুব বেশি খোঁজাখুঁজি করতে হবে না। কেবল ‘ন্যুডিটি’, ‘আনড্রেস’—এর মতো শব্দ দিয়ে সার্চ করলেই তারা ভেসে ওঠে। কী করে সংস্থাগুলোর তথাকথিত ‘কঠোর পর্যবেক্ষণ’ এড়িয়ে এ অ্যাপগুলো এখনো রয়ে গেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এ ধরনের অ্যাপের জনপ্রিয়তা গুগল ও অ্যাপল—উভয়ের স্টোরেই বেশ জনপ্রিয়। যার অন্যতম কারণ হচ্ছে—স্রেফ একটা ট্যাপ বা সহজ কোনো টেক্সট কমান্ডেই কোনো পোশাক পরিহিত নারীকে নগ্ন করে দেওয়া যায় এসব অ্যাপে। যখন যা খুশি তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ৭০ কোটি ছবি ডাউনলোড করা হয়েছে বলে দাবি রিপোর্টের, যা থেকে অ্যাপগুলোর সম্মিলিত আয় ১১৭ মিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, মোদি সরকারও একই কারণে গ্রককে নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছিল। এআইকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে অশ্লীল, আপত্তিকর এবং যৌন উসকানিমূলক ছবি-ভিডিও বানানো হচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। এর মধ্যেই উদ্বেগ আরও বাড়াল নয়া রিপোর্ট।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের অপব্যবহার রোধে আরও কঠোর নিয়মকানুন দরকার। অ্যাপ স্টোরগুলোকে আরও সতর্কতার সঙ্গে অ্যাপ পর্যালোচনা করতে হবে। না হলে এ ধরনের অপরাধ বাড়তেই থাকবে।
