মঙ্গলবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২১ ১৪৩২   ১৫ শা'বান ১৪৪৭

এপস্টেইন সংযোগ নিয়ে তদন্ত: সাক্ষ্য দিতে সম্মতি ক্লিনটন দম্পতির

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০২:৩২ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

 

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২০১৬ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিল ক্লিনটনের এক মুখপাত্র জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে অবমাননা অভিযোগে ভোটাভুটির সম্ভাবনা আপাতত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ওই ভোটাভুটির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পথও খুলে যেতে পারত বলে মনে করা হচ্ছিল।

 

ক্লিনটন দম্পতির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকবেন। সবার জন্য প্রযোজ্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে তারা আগ্রহী।”

 

এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ক্লিনটন দম্পতি আইনসম্মত সমন অমান্য করেছেন এবং বিশেষ সুবিধা দাবি করে অবমাননার অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্লিনটন দম্পতি আইনের ঊর্ধ্বে নন।

 

গত সপ্তাহে ওভারসাইট কমিটি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে অবমাননার সুপারিশ করেছিল। যদিও বিল ক্লিনটন পরে উপস্থিত না থেকেও তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। তাদের দাবি ছিল, এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রক্ষার একটি প্রচেষ্টা, যিনি দীর্ঘদিন এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

 

এদিকে রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন ক্লিনটনদের সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে পরিকল্পিত অবমাননা ভোট বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। তিনি বলেন, “এটি একটি ভালো অগ্রগতি। আমরা আশা করি সবাই কংগ্রেসের সমনে সাড়া দেবে।”

 

ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের টার্গেট করতেই এই তদন্তকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এখনো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাক্ষ্যের জন্য ডাকা হয়নি।

 

তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বিল ক্লিনটন একাধিকবার এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। পরে তিনি এই সম্পর্কের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনের দাবি, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো অর্থবহ যোগাযোগ ছিল না এবং তিনি কখনো তার বিমানে ওঠেননি বা ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।

 

এপস্টেইন সংক্রান্ত ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানায়, মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে পাঁচ হাজারের বেশি বার নাম উঠে আসার পর পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে প্রকাশিত এক ই-মেইলে তাকে এপস্টেইনকে নিজের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করতে দেখা যায়। এই ঘটনার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

 

সর্বশেষ প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে আবারও উঠে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম। এর আগের নথিতেও এসব ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছিল। নতুন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।