ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে লোকসান ৬ হাজার কোটি টাকা
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৪:২৮ পিএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
পাকিস্তান সরকার ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানিয়েছে। আইসিসি বলেছে, এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট ও টুর্নামেন্টের স্বার্থের পরিপন্থী।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ পায়নি। তবে ইচ্ছামতো ম্যাচে খেলা, অন্য ম্যাচে না খেলাটা বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সব যোগ্য দলকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে খেলতে হয়।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিশাল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দাবি, শুধু এই একটি ম্যাচ ঘিরেই জড়িয়ে আছে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকারও বেশি। পুরো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি সব ম্যাচের মিলিত বাজারের চেয়েও এই এক ম্যাচের ওজন বেশি।
কার কত ক্ষতি হতে পারে
- সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান: ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সরাসরি আঘাত পড়বে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা প্রতিষ্ঠানের আয়ে। একটি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৩০০ কোটি রুপি আয়ের লক্ষ্য থাকে। ম্যাচ না হওয়া মানে এই লাভটা তারা করতে পারবে না। জিওস্টার আগেই লোকসানের কারণে আইসিসির কাছে অর্থ ফেরত চেয়েছে। এবার এই ম্যাচ না হলে চাপ আরও বাড়বে।
- আইসিসি ও সদস্য দেশ: সম্প্রচারকারীরা অর্থ ফেরত চাইলে চাপ পড়বে আইসিসির ওপর। আইসিসির আয় কমলে ধাক্কা যাবে সদস্যদেশগুলোর ওপর। বিশেষ করে সহযোগী দেশ ও ছোট পূর্ণ সদস্যরা আইসিসির অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।
- ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড: ম্যাচ না হলে দুই দেশের বোর্ডই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০০ কোটি রুপি করে ক্ষতির মুখে পড়বে। বিসিসিআই আইসিসির আয়ের প্রায় ৩৮.৫ শতাংশ পায়। পাকিস্তান পায় ৫.৭৫ শতাংশ, যা বছরে প্রায় ৩.৪৫ কোটি ডলার। ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানের পাওনা অর্থ আটকে যাওয়া বা জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।
- দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: সবচেয়ে বড় ক্ষতি অর্থের নয়, সুনামের। সম্প্রচার সংস্থা ও বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। সূচিতে থাকা ম্যাচ একবার না হওয়ার অর্থ পরবর্তী সময়ে ম্যাচগুলো ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এতে স্পনসরদের আগ্রহ কমতে পারে, সম্প্রচারমূল্যও কমতে পারে।
আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, কোনো ম্যাচ ফরফিট হলে ডিফল্ট করা দলের নেট রান রেটও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিয়ম ১৬.১০.৭ অনুযায়ী, ফরফিট হওয়া ম্যাচে ডিফল্ট করা দলের পূর্ণ ২০ ওভার হিসাবের মধ্যে ধরা হবে। ফলে তাদের গড় রান রেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—তবে প্রতিপক্ষ দলের নেট রান রেট এতে প্রভাবিত হবে না।
এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের বিশ্বকাপে সুপার এইট বা সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
