সোমবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২০ ১৪৩২   ১৪ শা'বান ১৪৪৭

নাসার সুপারকম্পিউটারে ৫০০ বছরের কাজ একদিনে

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ১১:৩১ এএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

সাধারণ মানুষের কাছে শক্তিশালী কম্পিউটার মানেই দ্রুত ফাইল লোড বা গেমিং। কিন্তু নাসার কাছে এর অর্থ ভিন্ন—শতাব্দীর কাজকে মাত্র একদিনে শেষ করা। এই লক্ষ্য নিয়েই নাসা উন্মোচন করেছে তাদের নতুন সুপারকম্পিউটার ‘অ্যাথেনা’। এ বছরের জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার এইমস রিসার্চ সেন্টারে স্থাপিত এই যন্ত্র দেখতে খুব চাকচিক্যময় নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ কম্পিউটার যে কাজ সম্পন্ন করতে ৫০০ বছর সময় নেবে, অ্যাথেনা তা অনায়াসেই মাত্র ২৪ ঘণ্টায় শেষ করতে পারে।

 

অ্যাথেনার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ২০ পেটাফ্লপসের বেশি। এক পেটাফ্লপস মানে প্রতি সেকেন্ডে এক কোয়াড্রিলিয়ন (১ এর পর ১৫টি শূন্য) গণনা। অ্যাথেনা প্রতি সেকেন্ডে এই কাজ করে ২০ বার। এর ফলে নাসার পুরোনো প্লাইয়াদিস বা এইটকেন সিস্টেমের তুলনায় এটি বহুগুণ এগিয়ে গেছে। অ্যাথেনাকে রাখা হয়েছে নাসার মডুলার সুপারকম্পিউটিং ফেসিলিটিতে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আপগ্রেড করা সম্ভব। নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিস্টেমের সুবিধা হলো এর নমনীয়তা। পুরো ভবন না ভেঙেই এর কুলিং সিস্টেম বা হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করা যায়। এর ফলে খরচ কমে এবং গবেষণার কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না।

 

অ্যাথেনা কেবল দ্রুতই নয়, এটি সাশ্রয়ীও বটে। এর মডুলার সেটআপে বাতাস চলাচলের উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে, যা পুরোনো সিস্টেমের তুলনায় বিদ্যুতের খরচ অনেকটা কমিয়ে এনেছে। এআই বড় মডেল প্রশিক্ষণে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, জলবায়ু ব্যবস্থা এবং অ্যারোনটিকস গবেষণার বিশাল ডেটাসেট বিশ্লেষণ করবে এই কম্পিউটার। ভবিষ্যতের চন্দ্রযান অবতরণ, মঙ্গল গ্রহে প্রবেশপদ্ধতি ও গভীর মহাকাশযানের পথপরিকল্পনায় নিখুঁত গণনার প্রয়োজন। সামান্য একটি ভুল মানেই কোটি কোটি ডলারের মিশন ব্যর্থ।

 

অ্যাথেনা রকেট উৎক্ষেপণের হাজার হাজার কাল্পনিক পরিস্থিতির সিমুলেশন করতে সক্ষম। এ ছাড়া পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েডের পথ ট্র্যাকিং করার মতো জটিল কাজও অ্যাথেনার মাধ্যমে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করছে নাসা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অ্যাথেনা কেবল একটি মেশিন নয়; এটি মহাকাশ গবেষণার এমন এক সঙ্গী, যা মানুষের অসাধ্যকে সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসবে।