সোমবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২০ ১৪৩২   ১৪ শা'বান ১৪৪৭

অনলাইন-অফলাইন টিকিট বিক্রয় চালুর প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ১০:৩৫ এএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

ছবি: শাহরিয়ার শ্রাবণ

ছবি: শাহরিয়ার শ্রাবণ

রেলওয়ের সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক টিকিটিং ব্যবস্থা পরিবর্তন করে একই সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে টিকিট বিক্রয় কেন চালু করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
 

রুলে আইসিটি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনসহ অংশীদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে পরামর্শক্রমে একইসঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে টিকিটিং ব্যবস্থা কেন চালু করা হবে না – তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। আর রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিয়াজী আলমগীর আলম চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকদের সুবিধার্থে এবং প্রতিটি নাগরিকের বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে এই রিট করেছি। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

 

আইনজীবী জানান, এর আগে সিলেটের জেলা প্রশাসকের বক্তব্য ‘দুই মিনিটে টিকিট শেষ, এটা কোন সিস্টেম হতে পারে না’ – এর ভিত্তিতে এই রিট করা হয়েছে। জনস্বার্থে করা এই রিটে রেলসচিব, আইনসচিব, পরিকল্পনাসচিব ও রেলওয়ের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সহজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

 

গণমাধ্যমে গত ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের ওই বক্তব্য উল্লেখ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে– সিলেটের সেবাদানকারী বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ওই সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম সিলেট রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন।

 

পরিদর্শন শেষে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, অনলাইনে ২ মিনিটের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে যায়– এটা কোনো সিস্টেম হতে পারে না। এই সিস্টেম থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, সেই চিন্তা করা হচ্ছে। যার নামে ট্রেনের টিকিট ক্রয় করা হয়, তিনি ভ্রমণ না করে অন্য কেউ করার ফলে কালোবাজারিরা সুযোগ নিচ্ছে। এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

যার টিকিট তিনি ব্যবহার না করলে এতে বোঝা যাবে, সেটা কালোবাজারির মাধ্যমে সেবাগ্রহীতার হাতে এসেছে। আবার বিশেষ পরিস্থিতিতে সেটা দরকারও হতে পারে। সব দিক সমন্বয় করে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজা হবে। তবে রেলের কাউকে এ ক্ষেত্রে জড়িত পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ যেন সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।