বিশেষ এলাকায় নতুন ভোটার অস্বাভাবিক: বিএনপি
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৫:২৩ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার
ভোটার স্থানান্তরের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ বিশেষ কিছু এলাকায় অনেক নতুন ভোটার হয়েছেন, যেটা অস্বাভাবিক।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকটি বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।
পরে বৈঠকে আলোচনার বিষয়াবলি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি জানান, ভোটার স্থানান্তরের বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে ইসি বলেছে, এ রকম বেশি হয়নি। কোনো আসনে দু–তিন হাজারের বেশি স্থানান্তরিত হননি। তবে বিএনপি ইসির এ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, তাঁরা নিশ্চিত জানেন, প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন। যাঁরা ইসিকে এ–সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছেন, তাঁরা সঠিক তথ্য দেননি। বিএনপি ইসির কাছে আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য জানতে চেয়েছে।
বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, কেউ কেউ কোনো দলের পক্ষে বক্তৃতা করতে ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসকে আঘাত করছেন। কিন্তু ইসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্যদের প্রথমবারের মতো নির্বাচনের কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা শুনেছেন; যদিও এটা চূড়ান্ত নয়। তাঁরা বলেছেন, ছাত্রদের নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছে ইসি।
কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষার নামে একটা শান্তি কমিটি গঠন করার কথা শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শান্তি কমিটি শব্দটাই আমাদের কাছে খুব অপ্রিয় শব্দ; যদিও আমরা শান্তিবাদী মানুষ। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তাদের এ সম্পর্কে জানা নেই।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, এবার দেশি ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, তেমন পরিচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ নেই। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, ইসি বিষয়টা গভীরভাবে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নাকি সাধারণ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। ইসি বলেছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
বিএনপি জানায়, বৈঠকে ইসির পক্ষ থেকে সিইসি, অন্য কমিশনাররা ও সচিব উপস্থিত ছিলেন।
