রোববার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৯ ১৪৩২   ১৩ শা'বান ১৪৪৭

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে আজ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ

তরুণকণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৪:১০ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার

চলতি মৌসুমের জন্য দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ যাত্রা শেষ হয়েছে। সরকারের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ আর চলাচল করবে না। ফলে এই মৌসুমে যারা নীল জলরাশি আর প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চেয়েছিলেন, তাদের আগামী মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

সেন্টমার্টিনের অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ২০২৩ সাল থেকে পর্যটক ভ্রমণে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এই সুরক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বীপে মানুষের অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং প্লাস্টিকসহ অন্যান্য দূষণ থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

বিধিনিষেধ ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের শেষ সময়সীমা ছিল ৩১ জানুয়ারি। নির্ধারিত এই সময়ের পর দ্বীপে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকেই কক্সবাজার ও টেকনাফের জেটিগুলো থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি।

 

সেন্টমার্টিন দ্বীপটি সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিভিন্ন প্রজাতির প্রবাল এবং বিরল উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভয়ারণ্য। পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনায় এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দ্বীপটি তার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

জাহাজ চলাচল বন্ধের ফলে সেন্টমার্টিনের ওপর নির্ভরশীল পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এখন তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য ছোট ট্রলার বা নির্দিষ্ট নৌযানগুলো বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে। তবে কোনোভাবেই পর্যটকদের যাতায়াত বা রাত্রীযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

সবকিছু ঠিক থাকলে এবং পরিবেশগত অবস্থা অনুকূলে থাকলে আগামী পর্যটন মৌসুমে পুনরায় পর্যটকরা এই প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে সমুদ্র শান্ত হলে পুনরায় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে আগামী বছর পর্যটকের সংখ্যা নির্ধারণ বা রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির মতো আরও কঠোর নিয়ম আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সময়ে কোনো পর্যটক বা পর্যটকবাহী যান লুকিয়ে দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সেন্টমার্টিন এবং সংলগ্ন নৌপথে নিয়মিত টহল জোরদার করেছে যাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

 

সেন্টমার্টিনের এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। সাময়িক যাতায়াত বন্ধের এই সিদ্ধান্ত দ্বীপটিকে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে সাহায্য করবে। পর্যটকদের সচেতনতা এবং সরকারি এই উদ্যোগের সমন্বয়েই সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সেন্টমার্টিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।