এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
তরুণকণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৫:১২ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনাকারী এই সমুদ্রবন্দর।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের সব গেট শুনশান ছিল। কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান প্রবেশ বা বের হয়নি। বন্দরের ভেতরের অপারেশনাল কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কর্মস্থলে হাজিরা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজ করছেন না। সকাল ১১টার দিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এক শ্রমিক নেতা বলেন, “কর্মচারীরা তাদের ডিউটি পয়েন্টে গিয়ে হাজিরা দিয়েছে, কিন্তু কেউ কাজ করবে না। আমাদের আন্দোলনটা এটাই ছিল এবং সেটাই আমরা করছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।”
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বে-টার্মিনাল বা লালদিয়ার চরে কাজ দেয়া নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের নিজস্ব টাকায় নির্মিত এবং শতভাগ লাভজনক এনসিটি, যেখানে নতুন করে এক টাকাও বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই, সেটি কেন আমরা বিদেশিদের হাতে তুলে দেব?” তারা আরও মন্তব্য করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে চায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকাল থেকেই বন্দরের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তবে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বহির্নোঙরেও পণ্য খালাস বন্ধ করা হবে। পূর্বঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘটের অংশ হিসেবে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি দাফতরিক কাজও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
