চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ১১:০৭ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা বোকামি হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) চীনের সাংহাইয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চীন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে স্টারমার বলেন, আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ সরাসরি দেশের অভ্যন্তরে প্রভাব ফেলছে। তাই অস্থির বিশ্বে যুক্ত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে ব্যবসা করাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য আমি দেখেছি। এই সফরের আগে আমরা তার টিমের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ট্রাম্প নিজেও এপ্রিলে চীন সফরে আসতে পারেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যা ঘটছে, তার প্রভাব সরাসরি আমাদের ঘরোয়া পরিস্থিতিতে পড়ছে। তাই আমাদের যুক্ত থাকতে হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সিজিটিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ব যখন আরও বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে, তখন এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যা করছেন, তা একেবারেই সঠিক। আমি খুবই উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বার্তা ও নীতি সম্পর্কে। দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব তিনটি পরাশক্তির মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা একেক জায়গা দখল করছে।
এ সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক চীন সফরের গুরুত্বও তুলে ধরেন ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। এছাড়া আট বছরের মধ্যে এটিই কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। এর পাশাপাশি লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদন দেয়াকেও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এই নোবেলজয়ী।
এই মন্তব্যগুলো এমন সময়ে এসেছে যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন টানাপোড়েন চলছে। ব্রিটেনের এই অবস্থানকে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
