বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশ কমল, ডলারের শক্তিতে ধস
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ১১:০৩ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার
এই সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু গতকাল শুক্রবার হঠাৎ বড় ধস নামে। একদিনেই স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। স্বর্ণের দাম আরও কমবে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই পতনের প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তিশালী হওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দেন। তিনি আগে ফেডের গভর্নর ছিলেন। এই সিদ্ধান্তে বাজারে বার্তা গেছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের ভয় কমে যায়। তারা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ থেকে সরে আসতে শুরু করে।
ডলার শক্তিশালী হলে স্বর্ণের দাম সাধারণত চাপে পড়ে। কারণ স্বর্ণ ডলারে মূল্যায়ন করা হয়। ডলার বাড়লে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কিনতে খরচ বেশি হয়। এর ফলে চাহিদা কমে যায়। শুক্রবার ঠিক এই ছবিই দেখা গেছে। বড় অঙ্কের বিক্রি শুরু হয়। বিকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে ৪,৭২৪ ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে রুপার দাম ৩১ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ৭৯.৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
সপ্তাহের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল উল্টো। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় স্পট গোল্ড প্রায় ৫,৬০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। নিউইয়র্কে স্পট গোল্ড এক সময় ৫,৪১৮ ডলারের ওপরে যায়। পরে ফিউচারস বাজারে দাম ৫,০০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এটি দ্রুত উত্থানের পর বড় সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়।
সিটি গ্রুপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-চীন টানাপোড়েন, তাইওয়ান নিয়ে ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো বাজারে রয়েছে। তবে সিটি মনে করে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এসব ঝুঁকির প্রায় অর্ধেক কমে যেতে পারে বা স্থায়ী নাও হতে পারে। তখন স্বর্ণের দামে চাপ বাড়তে পারে।
২০২৬ সালের শুরুতে স্বর্ণ কেনার হিড়িক পড়েছিল। অনেকে পুরোনো গয়না বিক্রি করে নতুন কিনছেন। কেউ কেউ কয়েন ও বার কিনছেন। আবার অনেকে ইটিএফের মাধ্যমে বিনিয়োগ করছেন। প্যারিসের মতো শহরে ডিলাররা জানান, ক্রেতার চাপ ছিল অনেক। অনেকেই ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলছেন।
সাধারণত অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের দাম বাড়ে। কোভিড মহামারি ও বিভিন্ন যুদ্ধের সময়েও এমন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক, ভূরাজনীতি এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলেছিল।
এখন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এক বছর আগে স্পট গোল্ড ছিল ২,৭৯৫ ডলারের নিচে। সেই তুলনায় এখনো দাম অনেক বেশি। স্বর্ণের দাম স্বল্প সময়ে খুব দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা হুট করে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। যারা বিক্রি করতে চান, তাদের একাধিক জায়গার দাম তুলনা করা উচিত। বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিলে ঝুঁকি কমানো যায়।
