শনিবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৮ ১৪৩২   ১২ শা'বান ১৪৪৭

নাইকোর কাছে ১২,৩৭১ কোটি চেয়ে ৫১২ কোটি পাচ্ছে বাংলাদেশ

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ১০:১৪ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ মামলার চূড়ান্ত রায়ে বাংলাদেশ কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসের কাছে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার (বর্তমান মূল্যে প্রায় ৫১২ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে। বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত (ইকসিড) এই রায় দিয়েছে।

 

যদিও বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা, পরিবেশের ক্ষতি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য নাইকোর কাছে ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল।

 

জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানান, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া মামলার রায়ের সংক্ষিপ্তসার থেকে ক্ষতিপূরণের এই অঙ্ক জানা গেছে। তবে পুরো রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। রায়ের বিস্তারিত পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাবির তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশের ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। মামলা চালাতেও ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ক্ষতিপূরণের খবর প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্তারিত রায় দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

টেংরাটিলায় কী ঘটেছিল? ২০০৩ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র নাইকোকে অনুসন্ধানের জন্য হস্তান্তর করা হয়। খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে গ্যাসক্ষেত্রের মজুত গ্যাস পুড়ে যায়। আশপাশের স্থাপনা ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে। নাইকো তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

 

২০০৭ সালে বাংলাদেশের আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা। নাইকোর বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাইকোর্ট নাইকোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টেও পেট্রোবাংলার পক্ষে রায় আসে।

 

২০১০ সালে নাইকো ইকসিডে মামলা করে দাবি করে, বিস্ফোরণের জন্য তারা দায়ী নয়। ২০১৬ সালে বাপেক্স বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা করে। পরে বাপেক্স ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং সরকার ৮৯ কোটি ৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে। দুয়ে মিলে দাবি দাঁড়ায় ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

 

২০২০ সালে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, ইকসিড ট্রাইব্যুনাল নাইকোকে শর্ত ভঙ্গের জন্য দায়ী করে রায় দিয়েছে।

 

জাতীয় কমিটি তখন বলেছিল, ক্ষতি ৭৪৬ কোটি নয়, প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, ক্ষতিপূরণের দাবি পূরণে গাফিলতি ছিল। মামলা পরিচালনায়ও দুর্বলতা ছিল। তবে নাইকো দায়ী—এটা প্রমাণিত হয়েছে। এটা নৈতিক বিজয়। সুযোগ থাকলে সরকার আপিল করতে পারে।

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণ হতাশাজনক। পুরো রায় পেলে পর্যালোচনা করা হবে। মামলার খরচও হিসাব করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে এখনো অন্যান্য স্তরে গ্যাস মজুত আছে। নতুন কূপ খননের ডিপিপি প্রস্তুত। ইকসিডের চূড়ান্ত রায় পেলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।