বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   মাঘ ১৫ ১৪৩২   ০৯ শা'বান ১৪৪৭

জর্ডান নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ইসরাইলের: দাবি নেতানিয়াহুর

তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত : ০৪:৪৫ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশ জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শাসন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। এই অঞ্চলে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি ইসরাইল কখনো দেবে না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইসরাইলি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

নেতানিয়াহু বলেন, “আমি শুনেছি যে আমি নাকি গাজায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেব—এটা কখনো ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য এই অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। গাজায় হামাসের অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং হামাস যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করা না হওয়া পর্যন্ত কোনো পুনর্গঠন কাজের অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যা কিছু দরকার সবটুকু করা হবে” গাজায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য। নিরাপত্তাই সবচেয়ে আগে, পুনর্গঠন তার পরে। নেতানিয়াহু গাজায় বিদেশি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “তুরস্ক বা কাতারের সেনা আনা হবে বলে শুনছি—এটাও হবে না। কোনো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গাজায় মোতায়েন করা হবে না।”

 

এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মধ্যে এসেছে। নেতানিয়াহু আদালতের রায়কে “দোষী সাব্যস্ত” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এতে ইসরাইলের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

 

এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই দাবিকে “অন্যায় ও অবৈধ” বলে নিন্দা করেছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে, যা নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সরাসরি বিপরীত।

 

এই অবস্থান গাজায় যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনের আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরাইলের অভ্যন্তরে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী জোট সরকারের সমর্থকরা এই বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও, বিরোধীরা বলছেন এতে শান্তি প্রক্রিয়া আরও দূরে সরে যাচ্ছে।

 

যাইহোক, নেতানিয়াহুর এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। আগামী দিনগুলোতে এর প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটাই দেখার।